মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম চেতনার নাম অসাম্প্রদায়িকতা নানাজন নানা প্রয়োজনে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়েছে

প্রকাশ:| শনিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের মতবিনিময় সভায় চবি ভিসি আরিফ
a1
বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম চেতনার নাম অসাম্প্রদায়িকতা। নানাজন নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে। কিছু বর্ণচোরা ব্যক্তিই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়েছে সবসময়। তাই লক্ষ্যহীন, বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বর্ণচোরাদের এখনই চিহ্নিত করতে হবে। যেকোন কিছুর উছিলায় এসব বর্ণচোরা সমাজে পার পেয়ে যায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শে অটল থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছোট ছোট সংগঠনগুলিকে এক জায়গায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করবে, এসবের বিরুদ্ধে লড়বে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সামাজিক শক্তিগুলোর লক্ষ্য কিন্তু অভিন্ন। বাস্তবতা হলো জায়গাটা ভিন্ন। এই অভিন্ন শক্তিগুলোকে একত্রিত করে একটি বিশাল জাগরণ তৈরি করতে পারে সম্মিলিত সামাজিক শক্তি। এই শক্তির বৃহত্তর মোচ্চা হিসেবে কাজ করবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদ।
তিনি আরো বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়, কর্মপ্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে তবে আমরা এগুবোই। আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রত্যেককে ব্যক্তিস্বার্থ পরিত্যাগ করে উদার মনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের প্রস্তাবিত আহবায়ক কমিটি চূড়ান্তকরণকল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখে মনকে উদার করে যাঁরা এগিয়ে আসবেন তাঁদের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের দ্বার অবারিত। মানসিক বিকলাঙ্গ এবং অন্যের অহেতুক সমালোচকদের হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে কোন ব্যানার তৈরির পক্ষে আমরা না। আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই, সংগ্রামে থাকতে চাই, রাজপথে থাকতে চাই।
প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের সভাপতিত্বে ও শওকত বাঙালির সঞ্চালনে গত ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে অভিমত ব্যক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চল সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লকিতুল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী, সিএসডিএফ সভাপতি এস.এম নাজের হোসাইন, এডাব চট্টগ্রাম সহ-সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজিত রায়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম সভাপতি অধ্যাপক লতিফা কবির, সাধারণ সম্পাদক সুগতা বড়–য়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শিরিন আখতার, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিলুফার জাহান, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রাক্তন সভাপতি অঞ্জন কুমার সেন, প্রফেসর বেনু কুমার দে, সাংস্কৃতিক সংগঠক দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, এস.এম সাঈদ সুমন, চট্টগ্রাম গ্র“প থিয়েটার ফোরাম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ্ আলম, বরনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা মহাসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম একাডেমীর আজীবন সদস্য মো. কামাল হোসেন ওয়াসীম, প্রত্যয় ৭১ সহ-সভাপতি দীপংকর চৌধুরী কাজল, সূচনা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সভাপতি শাহিন আক্তার বিউটি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জেলা আহবায়ক সীমান্ত তালুকদার, প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও জেলা নেতা স্বপন সেন, লায়ন মো. মহিউদ্দিন সোহেল, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, নিখিলেশ সরকার রাজ, অলীদ চৌধুরী প্রমুখ।
সাম্প্রদায়িকতার বিষ দাঁত ভেঙে দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরো সজাগ ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দিতে গণমাধ্যমের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। শুধু তাই নয় জাতির যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
সভায় তৃণমূলে জনমত তৈরী করা, প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সভা করা এবং আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কনভেনশন’ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার শুরুতে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খানের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


আরোও সংবাদ