মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হল মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেওয়া

প্রকাশ:| বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ

বিজয় মঞ্চের স্মৃতিচারণ সভায় ড. অনুপম সেন

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চের স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হল মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেওয়া। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনুষ্যত্বের জয়গান গেয়েছেন তাই আমাদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। তিনি বলেন, ঐপনিবেশিক দুঃশাসন বাংলাদেশকে গরীব করে রেখেছিল আজ আমরা গরীবি মুক্ত। বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে এগুচ্ছে এই অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে পাপাচার মুক্ত হতে হবে। তিনি আরো বলেন- বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা প্রণয়নে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ছিল, তাই মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের অন্তিম লগ্নে দেশের কু-সন্তানরা তাদেরকে বেছে বেছে ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছিল। সেই কু-সন্তানদের বশংবদরা এখনো আমাদের সমাজে আছে। তাই তাদেরকে নিঃশেষ করার জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সবসময় অপরাজেয় থাকবে। এই বাংলাদেশের জন্মের জন্য ৩০ লক্ষ শহীদ আত্মাহুতি দিয়েছে এই আত্মাহুতির মূল্য বৃথা যেতে পারে না।

সভায় মূখ্য আলোচকের বক্তব্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল বারী বলেছেন, বাঙালির একটি স্বাধীন ভুখন্ডের জন্য ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে যোগাযোগ করি। তার নির্দেশনায় স্বাধীন বাংলাদেশের পরিকল্পনা শুরু হয়। আমরা যারা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিলাম তারা চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছি। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। এই চট্টগ্রামের বীর সন্তান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী মানিক চৌধুরী ও বিধান চন্দ্র সেনের নামে একটি সড়কের নামকরণ ও করা হয়নি। এটা পরিতাপের বিষয়, আমি আশা করব মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ তাঁদের সম্মান জানাবে।
স্মৃতিচারণ সভায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী ও আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

সভা শেষে বিজয় মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন নিশীতা বড়–য়া, রাজীব ভট্টাচার্য্য ও ইলু বিশ্বাস । নৃত্য পরিবেশনা করেন নৃত্যাঙ্গন।