মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসছে

প্রকাশ:| বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ

শামসু উদ্দিন, টেকনাফ প্রতিনিধি:
উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পাশা পাশি বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান আসছে মর্মে গোটা সীমান্তে এখবর সকল পেশাজীবি লোকদের মুখে মুখে। সীমান্ত এলাকার যে সব পয়েন্ট দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে, সে সব পয়েন্টে সরেজমিন অনুসন্ধানে জরীপে জানা যায়, গত ২৫ আগষ্ট মিয়ানমার আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা এবং সামরিক জান্তা ও উগ্রপন্থি রাখাইনদের মধ্যে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাণভয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা দলে দলে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ চলমান রয়েচে। প্রশাসন এ নিয়ে ব্যস্ত জীবন কাটালে এ সুযোগকে পূঁজি করে দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা এ সূবর্ণ সুযোগ হাতে নেয়। এ উদ্দেশ্যে টেকনাফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।। স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে ওদের সখ্যতা থাকায় ওরা ফের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং, কাঞ্জার পাড়া, বাহারছড়া, শামলাপুর, সাবরাং হারিয়াখালী, কাটাবনিয়া, খুরের মুখ ও শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়, ঘোলার পাড়া জেটিঘাট ও দাংগা পাড়া সীমান্তের এসব পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার আরাকান মংডু থেকে নৌকা ও ট্রলার যোগে নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গা নর নারী ও শিশু শরণার্থী মর্যাদা দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে। এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। হোয়াইক্যং এ দিনের বেলায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করলেও শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদী ও সাগর পথে বেশীরভাগ রোহিঙ্গা রাত্রে অনুপ্রবেশ ঘটে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য আরাকানের দক্ষিণাংশ মংডু, রাসিদং বুচিদংসহ অন্যান্য এলাকার লোকজন প্রায় ইয়াবা ব্যবসায়ী ওদের অধিকাংশ ঘর বাড়ী টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে। এমনকি ওরা এপাড়ে ভোটার তালিকায় নামও লিখেছে। ইয়াবা ও স্বর্ণের ব্যবসার স্বার্থে ওরা স্বদেশে থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণের ব্যবসার নিয়ন্ত্রন করে। এ অবস্থায় ওদের মধ্যে কেউ কেউ প্রাণ ভয়ে সীমান্তের এক শ্রেণীকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে টেকনাফ সীমান্তে চলে আসে। বাকি শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সে দেশের সীমান্ত রক্ষীকে মোটা অংকের নজরানা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেন। রোহিঙ্গা ও রাখাইন সহিংস ঘটনা যেতে না যেতেই ফের ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার শুরু হয়েছে। একাদিক সূত্র মতে রোহিঙ্গা ইস্যু সমস্যায় প্রশাসন ব্যস্ততা এবং গোলমালের মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গা শরনার্থী সেজে তাদের ব্যবহৃত মালামালের ভেতর বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে আসছে। শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া, ঘোলার পাড়া, দাংগাপাড়া ও সাবরাং কাটাবনিয়া, খুরের মূখ ঘাট দিয়ে এভাবে প্রচুর পরিমাণ ইয়াবা ও স্বর্ণালংকারের চালান অকপটে ঢুকলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর তেমন নজরদাবী নেয়। এ সময় দালালেরা সংশ্লিষ্ঠদের ম্যানেজ করে রোহিঙ্গা পারাপার বাণিজ্যের নামে মশগুল থাকে। এর ফাঁকে চলে এসেছে বস্তা বস্তা ইয়াবা চালান। আর এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন ব্যবসায়ী নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রান দেয়ার নামে ঔসব পাচার হয়ে আসা বস্তা বস্তা ইয়াবা রোহিঙ্গা সেবাকারীর আড়ালে চলে যায়। যাহা নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়লেও আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল বেখবর।