মিয়ানমারে হিন্দু পাড়ায় দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১১:১৬ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুরাও পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। দেশটির রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু পাড়ায় দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর হামলার খবর উঠে এসেছে দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে। হাতে আসা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এক হিন্দু নারী জানান, সেনাবাহিনীর সাথে মগ সন্ত্রাসীরাও এ হামলায় অংশগ্রহণ করে।

গত এক সপ্তাহের হামলায় রাখাইন রাজ্যের ফকিরাবাজারের ৭৫টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮৬ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেঁচে ফিরে আসারা জানান, মুসলমানদের পাশাপাশি মগ সন্ত্রাসীরা তাদের গ্রামেও হামলা করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। গুলি করে হত্যা করে অনেক নারী-পুরুষদের। অমানুষিক নির্যাতন করে নারী-শিশুদের। অনেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলাও হয় বলে তারা জানান।

পালিয়ে আসার সময় একদল হিন্দু নারীর বক্তব্য ধারণ করা এ ভিডিওতে কয়েকজন নারী দাবী করেন, তাদের স্বামীদেরকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কেটে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকায় এসব হিন্দু নারী এক রোহিঙ্গা সংগঠকের সাথে কথা বলেন। তারা নিজেদেরকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগ বৌদ্ধদের দ্বারা নির্যাতিত বলে ভিডিওটিতে মন্তব্য করেন।
এদিকে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ৪০০ এরও বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। স্থানীয় হিন্দুরা তাদেরকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেইসাথে খাদ্য সহযোগিতা দিচ্ছেন।
পরিবর্তন ডটকমের প্রাপ্ত ভিডিওতে নারী দলের সবাই জানিয়েছেন তাদের স্বামী ও পিতাদের অধিকাংশেরই পেশা হচ্ছে চুলকাটা, স্বর্ণালংকার তৈরি, মাছ ধরা, মাটির তৈজসপত্র বানানো।
তারা জানান, পাশের মুসলিম পাড়ায় কাউকে না পেয়ে তাদেরকে হামলা করে মিয়ানমার বাহিনী। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং পুরুষদের হত্যা করে। অনেকের স্বামীকে কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন এসব নারীরা। নিহতদের অনেকের নাম জানা গেছে, রঞ্জিত, নয়ন, শ্রীমান্ত, স্বপন।

তারা আরও জানান, মুসলমানদের সহযোগিতায় তারা সীমান্তে পালিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, পালিয়ে আসা অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়, বনজঙ্গলে, ধান ক্ষেতে লুকিয়ে আছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অনেক হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা ও ভয়ের কারণে অনেকে ঢুকতে পারছেন না।
গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনটি সীমান্ত চৌকিতে হামলার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে কয়েকশ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। এর আগে রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালায় মিয়ানমার বাহিনী। সে সময় তাদের সাথে প্রকাশ্যে হামলায় যোগ দেয় সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধ মৌলবাদীরাও। এ সব অভিযান ও হামলার সময় শুধু রোহিঙ্গা মুসলিমরাই নির্যাতিত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এবারই এ প্রথম সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সামনে এল। সেইসাথে মুসলমানদের সহযোগিতায় দলে দলে পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ সীমান্তে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে এবারের হামলা আগের ঘটনা থেকেও ভয়াবহ এবং নির্যাতনের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।