মিশরজুড়ে জরুরি অবস্থা, এল বারাদির পদত্যাগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৩:২৪ অপরাহ্ণ

মিশরজুড়ে জরুরি অবস্থাদিনভর ব্যাপক সহিংসতার পর মিশরজুড়ে মাসব্যাপী জরুরি অবস্থা জ‍ারি করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর। অন্য দিকে সেনা অভিযানে আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার জের ধরে পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এল বারাদি।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, মুরসি সমর্থকদের রাজপথ থেকে হটিয়ে দিতে স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ছয়টার কিছুক্ষণ পর রাজধানী কায়রোর পূর্বাঞ্চলীয় নাহদা স্কয়ারে অবস্থিত মুরসি সমর্থকদের অস্থায়ী ক্যাম্পে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। একই সঙ্গে নাসর সিটিতে অবস্থিত রাবা আল আদাইয়া স্কয়ারে মুরসি সমর্থকদের ক্যাম্পেও অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সেনা অভিযানে ২৭৮ জন মুরসি সমর্থক নিহত ও আরও প্রায় দেড় হাজার ব্রাদারহুড কর্মী আহত হয়েছে। তবে মুরসির দল ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সেনা অভিযানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এ সহিংসতার জের ধরে পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটা থেকে মিশরজুড়ে আগামী এক মাসের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার।

এদিকে ব্যাপক প্রাণহানির জের ধরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছেন কট্টর মুরসিবিরোধী রাজনীতিক মোহাম্মদ এল বারাদি। আণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক এই প্রধান বলেন, ‘যেসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত নই সেসব কাজের দায়ভার কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব পালন আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলাফল নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এক বিন্দু রক্তপাতেরও দায়ভার কাঁধে নিতে চাই না আমি।’

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মুরসির ক্ষমতাচ্যুতিকে সবার আগে স্বাগত জানানো এল বারাদির পদত্যাগ দেশটির সেনাবাহিনীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

সেনা অভিযানের পর বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটে প্রকাশিত লাইভ ফুটেজে নাহদা স্কয়ার ও রাবা আল আদাইয়া স্কয়ার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সেখানে অবস্থানরত সাংবাদিকরাও মুরসি সমর্থকদের জমায়েত লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। নাহদা স্কয়ারের ওপর দিয়ে সামরিক হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

নাহদা স্কয়ারে অবস্থানরত মুরসিপন্থি গণতান্ত্রিক জোট অ্যান্টি ক্যু অ্যালায়েন্সের সদস্য লায়লা একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘ইতিমধ্যেই অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে। এখানে যা ঘটছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’

রাজধানী কায়রো ছাড়াও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে উত্তরাঞ্চলের শহর আলেকজান্দ্রিয়া ও বেহেরিয়া এবং মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ আসিওত ও মিনিয়াতেও। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আসওয়ানে মুরসি সমর্থকরা গভর্নরের কার্যালয় ঘিরে রেখেছে বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে দুইজন সাংবাদিক ও মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় নেতা মোহাম্মদ এল- বেলটাজির ১৭ বছর বয়সী কন্যা আসমা এল বেলটাজিও রয়েছেন। নিহত দুই সাংবাদিকের মধ্যে একজন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ চ্যানেল ‘স্কাই‌ নিউজ’র ক্যামেরাম্যান মাইক ডিন। অন্যজন আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘গালফ নিউজ’র প্রতিবেদক আহমেদ আবদ আলাজিজ।

গত ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সামরিক বাহিনী। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে এক সময়ের নিষিদ্ধঘোষিত দল মুসলিম ব্রাদারহুড।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা

এ দিকে আন্দোলনরত মুরসি সমর্থকদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতারা।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন সত্যিকারের সমাধান বের করতে মিশরীয় জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। অন্য দিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এই ‘দুঃখজনক’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়া, প্রয়োজনে মিশরকে প্রতিবছর দিয়ে আসা দেড়শ’ কোটি মার্কিন ডলার অনুদানের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের হটাতে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। এছাড়া, মুরসি সমর্থকদের ওপর সেনা অভিযানে বহুসংখ্যক মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এমন পরিস্থিতি নিজেদের কর্তব্য পালন করতে জাতিসংঘ ও আরব লীগের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন তিনি।


আরোও সংবাদ