মিরসরাইয়ে হ্যাচারীর পচাঁ ডিম ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা::
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পোলট্রি হ্যাচারীর ফেলে যাওয়া পঁচা ডিম ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। পরিবেশ দূষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ-ব্যাধি। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় মানুষের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। অনেকে ওইপথ ছেড়ে অন্যপথ দিয়ে চলাচল করছে। পোলট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্যারাগন গ্রুপ ও সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী লিমিটেডকে এর জন্য দায়ী করছেন ভূক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কমলদহ এলাকায় পোলট্রি হ্যাচারীর ফেলে যাওয়া পঁচা ডিমের গন্ধে অতিষ্ঠ পুরো এলাকার মানুষ। ওই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়কের মাথায় বাওয়াছড়া ছরায় রাতে আঁধারে পিকআপ ভর্তি পঁচা ডিম পেলে যায় লোকজন। এরপর থেকে ওই সড়ক দিয়ে মানুষের চলাচল করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। শুধু চলাচল নয় আশপাশের মানুষ বসবাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে প্রতিদিন মানুষ বিভিন্ন কাজে আসা-যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ করে অন্য দুরের সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। পঁচা ডিমের এতো বেশি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে বমি করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে । ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার গৃহবধূ সানজিদা আক্তার বলেন, ‘পঁচা ডিমের গন্ধে চলাচল করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বমি করতে করতে অসুস্থ হচ্ছে।’
মধ্যম ওয়াহেদপুর শতাব্দী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রনি ভৌমিক বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমি কর্মস্থলে যাওয়ার সময় অসহ্য দুর্গন্ধে বমি করেছি। এখন ওই সড়ক দিলে চলাচল বন্ধ করে অন্য সড়ক দিয়ে চলাচল করছি। পঁচা ডিমের গন্ধে এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। খেতে বসলে দুর্গন্ধে খাবার গলা দিয়ে নামে না। বেড়েছে মশা-মাছির উৎপাত। মাছি বিস্তার ঘটাচ্ছে জীবাণুর।
জানা গেছে, পোলট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্যারগন গ্রুপ ও সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী লিমিটেড এর যে কেউ পঁচা ডিমগুলো ফেলতে পারে। কারণ আশপাশে তাদের হ্যচারী রয়েছে। তবে পঁচা ডিম ফেলে যাওয়ার বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন। তারা একে অপরের দোষ দিচ্ছেন।
জানা গেছে, নিয়মনুযায়ী পোলট্রি কারখানায় উৎপাদিত পঁচা ডিম মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু তারা মাটিতে না পুঁতে মানুষ চলাচলের জায়গায় ডিমগুলো ফেলে গেছে।
এই বিষয়ে মাতৃকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. জামশেদ আলম বলেন, ‘পঁচা ডিমের দুর্গন্ধে টাইপয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা সহ ব্যকটেরিয়া জনিত নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই দূর্গন্ধ খুবই ক্ষতিকারক। তাই মানুষ বিচরণের স্থান ও আশপাশে এই ধরনের দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এমন বর্জ্য না ফেলা উচিৎ।’
এই বিষয়ে প্যারাগন গ্রুপের কমলদহ হ্যাচারীর ইনচার্জ আবদুল মতিন বলেন, আমাদের কারখানার ময়লা ফেলার জন্য বাইরের লোক দায়িত্বে রয়েছে। ওই স্থানে ময়লার ফেলার খবরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি। সে ওইস্থানে ময়লা ফেলেনি বলে জানিয়েছে। তা ছাড়া আমরা ওইদিকে ময়লা ফেলিনা। সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী লিঃ হয়তো ময়লাগুলো ফেলতে পারে।
সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা বলেন, কমলদহে আমাদের ফিড মিল ও টেরিয়াইলে মুরগী উৎপাদন করা হয়। উপজেলার ঠাকুরদীঘি এলাকায় ডিম উৎপাদন করা হয়। সেখান থেকে এতদুরে এনে পঁচা ডিম ফেলে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
এই বিষয়ে ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, পঁচা ডিম ফেলে যাওয়ার বিষয়ে আমি প্যারগন গ্রুপ ও সিপি কোম্পানীর কর্মকর্তাদের ডেকেছি। তারা ডিমগুলো ফেলে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারপরও আমি খোঁজ খবর নিচ্ছে কারা এমন কাজ করেছে।
এই বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।