মিরসরাইয়ে দেশী গরু-ছাগলের বেচা-বিক্রিই বেশি

প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ

মিরসরাই সংবাদদাতা::
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের গরু-ছাগলের বাজার গুলোতে চলছে জমজমাট বেচা বিক্রি। ঈদের কয়েক দিন বাকি থাকতেই পুরো উপজেলার ছোট বড় সকল পশুর হাট ক্রেতা বিক্রেতায় সরগরম। ইতমধ্যে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দু’টি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাজারে জমতে শুরু করছে কুরবানীর পশুর হাট। ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাজারে দেশীয় গরুর বেচা বিক্রিই তুলনামুলক ভাবে বেশি হচ্ছে।
তবে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করা গরুতে খরচ বেশী হওয়ায় বিক্রেতারা কম দামে গরু বিক্রিতে আগ্রহী না। আর দেশের বাহির থেকে গরু আসবে এমন খবরে ক্রেতারাও বেশী দামে দেশী গরু কিনতে সংশয়ে রয়েছেন।
জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বাজারগুলোতে জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার শুরু থেকে প্রত্যেকটি বাজারে গরু-ছাগল বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার মিঠাছরা বাজার, করেরহাট বাজার, বারইয়ারহাট পৌর বাজার, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, ঝুলনপোল, আবুরহাট দুর্গাপুর, মিঠাছরা, বামনসুন্দর, মিরসরাই পৌর বাজার, বড়তাকিয়া, নিজামপুর, কমলদহ, মৌলভী বাজার, হাদি ফকিরহাট, বড়দারোগারহাট বাজার ছাড়াও ঈদুল আযহা উপলক্ষে আরও ছোট ছোট কয়েকটি স্থানে বসেছে এবার কুরবানীর হাট। কোরবানী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে পশুর হাট বসায় বড় বাজারগুলোর চাহিদা কমে গেছে ক্রেতাদের কাছে। প্রায় প্রতিটি বাজারে ক্রেতাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন ও বাজার কমিটি। তাছাড়া জাল নোট পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বাজারে বসানো হচ্ছে মেশিন।
গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর পাশ্ববর্তী দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে গরু আসতেছে। ফলে ক্রেতা সাধ্যের মধ্যে গরু কিনতে পারতেছেন। ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকী থাকায় গরুর দাম কমবে এমন আশায় অনেকে গরু কিনতেছেন না। শেষে হয়তো গরুর দাম বাড়তেও পারে অথবা আরও কমতে পারে।
উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর বাজার মিঠাছরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বাইরের গরু কম আর দেশী গরু বেশী। সপ্তাহের রবিবার আর বৃহস্পতিবার বসে এখানে গরু এবং ছাগলের বাজার। দেশী গরুর পাশাপাশি নেপাল, ভারত, মায়ানমার থেকে বিক্রির জন্য আনা গরুতে ভরপুর বাজার। অনেকে গরুর অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো গরু কিনছেন না। মিঠাছরা বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো দেশীয় গরু। দেশীয় গরু কেনার জন্য এখানে বিভিন্ন বাজার থেকে পাইকাররা এসে প্রতিবছর ভিড় জমান।
মিঠাছরা বাজারে মিরসরাই পৌরসভা থেকে গরু কিনতে আসা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এবার ঈদে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাইরের গরু এখনো তেমন আসে নাই। তবে যথেষ্ট পরিমাণ দেশী গরু রয়েছে। দেশের বাহির থেকে গরু আসবে এমন খবরে বাজারে গরু বেচাকেনা কম।
কমলদহ ও নিজামপুর বাজারের ইজারাদার আশরাফুল কামাল মিঠু বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই দুই বাজারে দেশীয় গরুর সরবারহ এবং চাহিদা বেশী।
মিঠাছড়া বাজারের ইজারাদার আক্তারুন্নবী শামীম বলেন, আমরা সরকারকে কোটি টাকার বিনিময়ে বাজার ইজারা নিয়েছি। অথচ ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে গরুর বাজার বসতে শুরু করেছে। যেসব বাজার থেকে সরকার রাজস্ব পায় উপজেলা প্রশাসন ওই বাজার গুলোকে কোন সহায়তা করতেছেনা। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও উপজেলার পাত্তারপুকুর, ফকিরহাট, চৈতন্যেরহাট বাজারে ইজারা না হলেও গরুর বাজার বসেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান বলেন, ঈদুল আযহার গরুর বাজার উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গরুর বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক বাজারে সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।

 


আরোও সংবাদ