মিরসরাইয়ে কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ৯ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৬:৩১ অপরাহ্ণ

মিরসরাই সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের নতুন বেড়ি বাঁধের বাইরের কৃষি জমি রক্ষা ও অধিগ্রহণ না দিয়ে কৃষকদের জমি ভরাট এবং গৃহ নির্মাণে প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জমির মালিকরা। সোমবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী এলাকায় ফসলি জমিতে যুব জাগরনী আর্দশ কৃষি পশুপালন মৎস্য বহুমুখী সমবায় সমিতি ও কৃষি জমি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জমির মালিকগণ মাটি ভরাটের কাজে নিয়োজিত স্কেবেটর বন্ধ করে দেন। এসময় উত্তেজনা শুরু হয়ে গেলে মাটি কাটার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে কাজ পুনরায় শুরু হয়।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে ৪১ টি দাবী তুলে ধরেন যুব জাগরনী আর্দশ কৃষি পশুপালন মৎস্য বহুমুখী সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মিয়া। এসময় আরো বক্তব্য কৃষি জমির রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আবু নছর নওশা, মুরশিদুল আলম, আব্দুর রউফ, নিজাম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা হোসনের জামান, আসমা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সামছুদ্দিন, ওহিদুজ্জামান। মানববন্ধনে ৭ শতাধিক জমির মালিক অংশগ্রহণ করে।
জমির মালিক আবদুর রউফ জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলের নতুন বেড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশে কয়েক হাজার একর অনাবাদি জমি খালি পড়ে আছে। সরকার সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল না করে আমাদের পূর্ব পুরুষের দেওয়া একমাত্র সম্বল কৃষি জমি কোন রূপ অধিগ্রহণ না করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা চাই সরকার কৃষি জমি বাদ দিয়ে বেড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশের খালি জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করুক।
ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা হোসনের জামান বলেন, কৃষিজমিগুলো আমাদের পূর্ব পুরুষ সূত্রে পাওয়া। এখানে চাষাবাদ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে মালিকদের কোনরূপ নোটিশ না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে আমাদের জমি ভরাট করে ফেলতেছে।
গৃহিণী ফাতেমা আক্তার বলেন, সরকার ভূমিহীন পরিবারকে ৯৯ বছরের জন্য এক একর করে জায়গা বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্ধেও পর থেকে আমরা এখানে চাষাবাদ করে আসছি। অকৃষি চরকে সংস্কার করে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলেছি। আমাদের পরিবারের আর্থিক শেষ সম্ভলটুকুও এখানে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনরূপ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এখন জমি ভরাট করে ফেলতেছে।
মুরশিদুল আলম বলেন, জমির মালিককে অধিগ্রহনের কোনরূপ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কে বা কাহারা জমিতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মাটি ভরাট করতেছে তা আমরা জানি না। আমরা চাই সরকার কৃষি জমি বাদ দিয়ে অনাবাদি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করুক। তিনি আরো বলেন, কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে আগামী ১৫ এপ্রিল রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
যুব জাগরনী আদর্শ কৃষি পশু পালন মৎস্য চাষি বহুমুখী সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মিয়া জানান, যুব জাগরণী আদর্শ কৃষি পশু পালন মৎস্য চাষি বহুমুখী সমবায় সমিতি ৯৯ বছরের জন্য পশ্চিম ইছাখালী মৌজার বি.এস দাগ নং- ১৪৫৩৫, ১৪৭০০, ১২৭৫০, ১২২৫০ দাগের ৪৫০ একর ধানি জমি বন্দোবস্তি দেয়। বর্তমানে খাসজমিগুলোতে আউশ, আমন সহ রবিশষ্য চাষ করার পাশাপাশি মাছের প্রকল্প রয়েছে। সরকার শুরুতে কৃষি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল না করার ঘোষণা দিলেও এখন কোনরূপ অধিগ্রহণ না করে জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. মফিজুর রহমান জানান, কিছু ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনের নিরাপত্তায় পুলিশের একটি টিম নিয়োজিত ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ কায়সার খসরু জানান, মানববন্ধনের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কোন ভূমির মালিক যোগাযোগ করেনি। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কেউ যদি যোগাযোগ করে তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।