মিরর প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে বিতর্ক

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২ জুলাই , ২০১৩ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বহুল আলোচিত রেশমা উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিদেশি দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।মিরর প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে বিতর্ক

রেশমাকে নিয়ে মিররের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বিরোধী দলীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটনা।
তিনি এই ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, “আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান এ্যানি।
জবাবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বক্তব্য দেন।
বিদেশি পত্রিকা মিররের রিপোর্টকে ‘আবর্জনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সংসদে মিররে যে আবজর্না উপস্থাপন করা হলো তা কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক।”
অন্যদিকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “বিরোধী দল দেশপ্রেমিক সেনাবহিনীকে বিতর্কিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ক্ষমতায় থাকতে উপার্জিত অবৈধ অর্থ মানিলন্ডারিং করে বিদেশে পাঠিয়ে সেই অর্থ দিয়েই এসব রিপোর্ট করানো হচ্ছে।”
দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এর সমুচিত জবাব দিবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা সানডে মিরর ও ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রেশমা বেগম উদ্ধার ঘটনাকে সাজানো বলে জানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিও দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “হেফাজতের ওপর গণহত্যা ও দেশের দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করতেই সরকার পরিকল্পিতভাবে রেশমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা ছিল সরকারের সাজানো নাটক। ওই ঘটনার পরপরই ফেইসবুক, টুইটারসহ সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোতে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তখন এটা আমরা বিশ্বাস করিনি।”
এ্যানী আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রেশমা উদ্ধার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা লজ্জিত। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ হিসেবে আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে।”
এসময় তিনি রেশমা উদ্ধার ঘটনার ‘রহস্য’ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
এর জবাব দিতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “বিএনপির মতো নির্ভেজাল মিথ্যা আর কোনো দল বলতে পারে না। বিদেশি দুই ট্যাবলওয়েড পত্রিকায় রেশমা উদ্ধার নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাতে রানা প্লাজায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, বিজিবি, সিভিল ডিফেন্স, র‌্যাব, পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে চপেটাঘাত করা হযেছে।”
তিনি বলেন, “নিউজটি প্রকাশ করেছে ট্যাবলওয়েড পত্রিকা। তাদের বৈশিষ্ট হচ্ছে কিছু মুখরোচক সংবাদ প্রকাশ করা। যিনি নিউজটি লিখেছেন তার পরিচয় কি? তার ব্যাকগ্রাউন্ডই বা কি? সিমন রাইট নামের ওই সাংবাদিক এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলে পরিকল্পিতভাবে ইংল্যান্ড দলের ড্রেসিংরুমে একজনকে ঢুকিয়ে দেয়। এসময় তিনি ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশ পড়ে শোনান।”
মতিয়া চৌধুরী বলেন, “রিপোর্টার তার প্রতিবেদনে রেশমার সহকর্মীর নাম উল্লেখ করেননি। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যায় এমন সংবাদ ছাপিয়ে চায়ের কাপে তুফান তোলা ওই সংবাদের উদ্দেশ্য ছিল। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ করাও তাদের উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে যেন আমাদের সেনা সদস্যরা যেতে না পারেন, এটাও ছিল তাদের উদ্দেশ্য।”
এসময় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “কিছুদিন আগে বগুড়ায় এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সেনাবাহিনী ও জনগণ সময় মতো জাগবে। দুঃখের বিষয়, সেনাবাহিনীও জাগে না, জনগণও আসে না।”
এসময় তিনি খালেদা জিয়ার ক্যান্টমেন্টের বাসা ছাড়া নিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করেন।
এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই বিষয়কে সংসদে উত্থাপনের সমালোচনা করে এসব আলোচনা সংসদ থেকে এক্সপাঞ্জের দাবি জানান।