মিডিয়া কর্মীদের এড়িয়ে চলছেন বিওএ কর্মকর্তারা

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৪:০৮ অপরাহ্ণ

২৩শে জুলাই শুরু হয়েছে বিশতম কমনওয়েলথ গেমস। কমনওয়েলথভুক্ত ৭১টি দেশের কয়েক হাজার ক্রীড়াবিদ এখন ব্যস্ত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। আর বাংলাদেশ দলের কর্মকর্তারা ব্যস্ত গেমস কাভার করতে আসা নিজ দেশের সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলতে! কমনওয়েলথ গেমসের সংবাদ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশ থেকে গ্লাসগো এসেছেন আট ক্রীড়া সাংবাদিক। তাদের মধ্যে দু’জন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার, একজন সংবাদ সংস্থার এবং বাকি পাঁচজন প্রিন্ট মিডিয়ার। তারা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় গ্লাসগো অবস্থান করলেও নিজ দেশের ক্রীড়া দলের কর্মকর্তাদের নাগাল পাচ্ছেন না কোনভাবেই। যে ডিসিপ্লিনগুলোতে বাংলাদেশ অংশ নেবে তার বিভিন্ন তথ্য জানতে ঢাকা থেকে আসা সাংবাদিকরা হন্যে হয়ে ঘুরছেন কর্মকর্তাদের নাগাল পেতে। কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গেমস শুরু হওয়ার তিনদিন আগে সাংবাদিকরা পর্যায়ক্রমে গ্লাসগো এলেও তাদের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগও রক্ষা করেননি তারা। দু’-একজন সংবাদকর্মী নিজ তাগিদে বাংলাদেশ দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা অনেকটা এড়িয়ে যান সাংবাদিকদের।
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মানু, মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু ও ইমতিয়াজ খান বাবুলসহ অনেকেই এখন গ্লাসগোতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন স্ত্রী বা সন্তানকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা যেন পিকনিক করতে এসেছেন এখানে। পরিবারের লোকজন বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিলাসভ্রমণে এসে তারা শপিংয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত রয়েছেন। দেশের সাংবাদিকদের কথা না হয় বাদই গেল, অভিযোগ রয়েছে, যাদের উপলক্ষ করে বিওএ’র কর্মকর্তারা গ্লাসগো অবস্থান করছেন সেই ক্রীড়াবিদদেরও খোঁজ-খবর তারা রাখছেন না। বিওএ’র কর্মকর্তাদের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশ দলের সেফ দ্য মিশন হারুনুর রশীদ, ম্যানেজার যোবায়েদুর রহমান রানাসহ বেশ ক’জনকে। দেখা গেছে নিজ দেশের সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলতে। যদিও শুক্রবার বাংলাদেশের কৃতী শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকীর পদক জয়ের দিন সেফ দ্য মিশনকে দেখা গেছে দু’-একজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপ করতে। ব্যারি ব্যাডন শুটিং সেন্টারে ওই কয়েক মিনিটের আলাপই ছিল সেফ দ্য মিশন হারুনুর রশীদের সৌজন্যে। সাংবাদিকরা নিজ তাগিদে ফোন করে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ দলের নানা তথ্য জানার চেষ্টা করেও বেশির ভাগ সময় ব্যর্থ হচ্ছেন। একমাত্র শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু ছাড়া এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যিনি গ্লাসগোতে নিজ দেশের সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। কেন বাংলাদেশ দলের কর্মকর্তাদের এমন মিডিয়াভীতি। তাহলে কি নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্যই তারা নিজ দেশের সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন- এমন প্রশ্ন অনেকেরই।