মা মাছ ডিম দিতে পারে যে কোন সময়, হ্যাচারী ব্যবহার অনুপোযোগি

প্রকাশ:| বুধবার, ৭ মে , ২০১৪ সময় ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজানঃদেশের একমাত্র মিঠা পানির মাছের প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী নদী থেকে প্রতি বছর মাছে ডিম সংগ্রহ করেন,এমন মৎস্যজীবরা জানিয়েছেন যেকোনো সময় মা মাছ ডিম দিতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দুই শতাধিক মৎস্যজীবি নৌকা জাল দিয়ে নদীতে অপেক্ষায় আছে। মৎস্যজীবিরা অভিযোগ করেছেন আধুনিক পদ্ধতিতে ডিম ফুটানোর কথা বলে নদী পাড়ে কয়েকটি হ্যাচারী প্রতিষ্ঠান করেছে মৎস্য বিভাগ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাউজানের কাছিমনগর হ্যাচারীটি এখনো ফেলে রাখা হয়েছে ব্যবহার অনুপোযোগি করে।

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের উদাসিনতায় নদীর পাড়ের মৎস্যজীবিরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রবল বর্ষণ হলে আগামী পূর্ণিমায় মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। এমন অবস্থায় হুমকীর মূখে পড়েছে হালদা নদী। নদী থেকে মৌসুমী ডিম সংগ্রহকারীরা অভিযোগ করে বলেছে মা মাছ ডিম দেয়ার এই সময়ে নদীতে অবাধে চলাচল করছে যান্ত্রিক নৌযান। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে নদী পাড়ে প্রতিষ্ঠিত হ্যাচারী এখনো পড়ে আছে ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা বলেছেন নদীতে রাতে বেলায় বড় বড় জাল ফেলে মা মাছ মারা হচ্ছে। রাত দিন নদীতে বালু বোঝায় যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের কারণে মা মাছের বিচরণ এখন আগের মত লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বুধবার নদী পথ সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, হালদার মুখের কাছের হালদার চর এলাকা থেকে ড্রেজার বসিয়ে রাত দিন উঠানো হচ্ছে বালু। এই বালু পরিবহন করে নেয়া হচ্ছে হালদার মুখ হয়ে মদুনাঘাট,কালুরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া যান্ত্রিক নৌযান করে বালু পরিবহন হচ্ছে সত্তারঘাট, আজিমেরঘাট, নাপিতেরঘাট এলাকায়। নদীপথের বিভিন্নস্থানে দেখা গেছে জাল পাতার দৃশ্য। এলাকার লোকজন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে দিনের বেলায় জাল পাতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমার নেতৃত্বে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পোড়ানো হয় আটক করা জাল। তবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতে নদীতে তৎপর থাকে অসাধু মৎস্যজীবিরা জাল নিয়ে। তাদের অভিযোগ সরকারি ভাবে ডিম দেয়ার আগে পড়ে নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার আইন থাকলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো সময় উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন জানান হ্যাচারী উপযোগী করতে জেলা পর্যায়ে কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। যান্ত্রিক নৌযান হালদায় চলাচল করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি দারি করেন ইতিমধ্যে কয়েকটি নৌযান আটক করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ রক্ষায় আটজন আনসার সদস্য, ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে নিষেধজ্ঞা আমান্য করে চলছে মাছ শিকার, চলাচল করছে যান্ত্রিক নৌযান উত্তোলন করা হচ্ছে বালু । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালাদা নদীতে চলছে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুম । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালাদা নদীতে মা মাছের প্রজনন বৃদ্বি করার জন্য প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র পুনঃরুদ্বার প্রকল্প হাতে নেয় সরকারের মৎস মন্ত্রনালয় । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র পুনঃরুদ্বার প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হালদা নদীর দুই তীরে বৃক্ষ রোপন, হ্যাচারী নির্মান, হালদা নদীর উপকারভোগী মৎসজীবি, জেলেদের মাছ শিকার না করার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ঋন প্রদান করা হয় । হালদা নদীর নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার নদীতে সারা বৎসর মাছ ধরা নিষিদ্ব করা হয় । হালদা নদীর সাখে সংযুক্ত খাল গুলোতে ডিম ছাড়ার মৌসুমে ছয় মাস মাছ ধরা নিষিদ্ব করা হয় । জালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব করার নির্দেশনা দিয়ে মৎস মন্ত্রনালয় গেজেট জারী করেন । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিনিয়ত মাছ শিকার চলছে । হালদা নদীতে রাউজান হাটহাজারীর সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে বালু উত্তোলন, হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠা চর থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে চলছে মাটি কাটা । হালদা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ও চর থেকে ড্রেজার দিয়ে কাটা মাটি প্রতিনিয়ত যান্ত্রিক নৌযান ভর্তি করে চলাচল করছে । হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা ইটের ভাটার ইট পরিবহন, ইটের ভাটায় ইট তৈরী করতে হালদা নদীর তীর ও চর কাটা মাটি ও ইটের ভাটার জ্বালানী কাঠ সহ অনান্য সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছে হালদা নদী দিয়ে যান্ত্রিক নৌযান করে। প্রতিনিয়ত মাছ শিকার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল করায় হালদা নদীতে মা মাছের নিরাপত্তা বিঘিœত হয়ে আসছে । হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুম চলছে । হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে ও বন্দ্ব হয়নি মাছ শিকার, যান্ত্রিক নৌযান চলাচল, বালু উত্তোলন, চর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা । সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, হালদা নদীর মোহনা থেকে নগরীর মোহরা, রাউজানের কচুখাইন, মোকামী পাড়া, সার্কদা, মদুনাঘাট, উরকিরচর, খলিফার ঘোনা, আবুর খীল, মগদাই, আজিমের ঘাট, পশ্চিম বিণাজুরী, গহিরা মোবারক খীল, দক্ষিন গহিরা, পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, মঘাশাস্ত্রি বড়–য়া পাড়া, বদুর ঘোনা, কোতোয়ালী ঘোনা, ইন্দ্বিরা ঘাট, নদীম পুর, পশ্চিম ফতেহ নগর হাটহাজারীর মাদ্রারসা. আমতোয়া, শাহমাদারী, নয়া হাট, গড়দুয়ারা, মেখল, লাঙ্গল মোড়া এলাকায় হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার মৌসুমে চলছে মাছ শিকার, চলছে যান্ত্রিক নৌযান উত্তোলন করা হচ্ছে বালু । ছায়ার চর, হালদার চর, আবুর খীল, পশ্চিম বিনাজুরী এলাকায় ও হাটহাজারীর মেখল নগরীর মোহরা এলাকায় হালদা নদীর চর থেকে কাটা হচ্ছে মাটি । ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে এই মাটি যান্ত্রিক নৌযান ভর্তি করে ইটের ভাটায় ইট তৈয়ারী করার জন্য ইটের ভাটায় আনা হচ্ছে প্রতিনিয়িত । হালদা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু যান্ত্রিক নৌযান করে হালদা নদী দিয়ে পরিবহন করছে অবাধে । হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে কয়েক দপে বৃষ্টি হলে রাউজান হাটহাজারীর সহস্রাধিক ডিম সংগ্রহ কারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে হালদা নদীতে প্রতিক্ষার প্রহর গুনলে ও মা মাছ ডিম ছাড়েনি । প্রচন্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টি হলে নদীতে শ্রোত হলে আগামী পুণিমার তীথিতে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম চাড়তে পারে বলে আশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা । রাউজানের অজিমের ঘাট এলাকার ডিশ সংগ্রহকারী শুকলাল দাশ বলেন হালদা নদীতে দিন রাত নৌকা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছি কোন সময়ে প্রচন্ড বৃষ্টি হয় কখন ডিম ছাড়বে ।
৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ হালদা নদীতে মা মাছ রক্ষা করার জন্য আটজন আনসার সদস্য নিয়োগ দিয়েছে মৎস বিভাগ । নেই কোন ¯প্রীড বোট তাদের। মদুনাঘাট এলাকা থেকে যান্ত্রিক নৌকা সাম্পান ভাড়া করে আনসার সদস্যরা হালদা নদীতে পাহাড়া দেয় । হালদা নদীর বিশাল এলাকায় আটজন আনসার সদস্য দিয়ে মা মাছের রক্ষায় পাহাড়া দেওয়ার মা মাছের রক্ষা ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান এলাকার ডিম সংগ্রহকারীরা । হালদা প্রকল্পের পরিচালক চট্টগ্রাম জেলা মৎস অফিসার প্রভাতী দেব জানান, হালদা নদীতে মাছ শিকার বন্দ্ব রয়েছ্ ে। হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে যারা মাছ ধরছে ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । গত ৩ মে শনিবার রাউজানের মোকামী পাড়া এলাকায় হালদা নদীতে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে জাহেদ কোম্পানীর ইটের ভাটায় ইট তৈরীর জন্য মাটি নেওয়ার সময়ে দুইটি ড্রেজার আটক করে ইটের ভাটার মালিককে আর কোনদিন হালদা নদী থেকে মাটি কাটবেনা বলে অঙ্গিকার নিয়ে ড্রেজার দুটি ছেড়ে দেয় বলে জানান হালদা প্রকল্পের পরিচালক চট্টগ্রাম জেলা মৎস অফিসার প্রভাতী দেব । হ্য্চারীগুলো সব প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান ।