মা মাছ ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে:নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন, যান্ত্রিক নৌযান, মাছ শিকার

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

মা মাছ ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে চলছে বালু উত্তোলন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে যান্ত্রিক নৌযান, চলছে মাছ শিকার
শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধি ঃ মা মাছ ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে চলছে বালু উত্তোলন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে যান্ত্রিক নৌযান, চলছে মাছ শিকার । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতি বৎসরের মার্চ মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে প্রবল বর্ষন হলে নদীতে ঢলের পানির শ্রোত সৃষ্ঠি হলে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস মাছ হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিম ছাড়েন । মা মাছ ডিম ছাড়ার সময় রাউজান – হাটহাজারী এলাকার হালদা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস কারী জেলে,মৎসজীবি, ডিম সংগ্রহকারীরা প্রচন্ড ঝড় বৃিষ্ঠ উপেক্ষা করে নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে । নদী থেকে জাল দিয়ে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করে । এলাকার ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে নদীর তীরে মাটির কুয়ায় ও হ্যাচারীতে ডিম ফুটিয়ে থাকেন । ডিম থেকে রেনু ফুটানোর পর হালদা মাছের রেনু চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মৎসচাষীরা এসে ক্রয় করে নিয়ে গিয়ে মাছের চাষাবাদ করেন । হালদা নদীতে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে গড়ে তোলতে মৎস মন্ত্রনালয় হালদা নদীকে মৎস অভয়শ্রম ঘোষনা করেন । হালদা নদীর নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট ব্রীজ পর্যন্ত সারা বৎসর মাছ শিকার নিষিদ্ব করা হয়। বৎসরের মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ব করা হয় । হালদা নদীর মাছ শিকার বন্দ্ব করতে জেলে ও মৎসজীবিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ বিতরন করা হয় ।সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় বর্তমানে মা মাছ ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে চলছে বালু উত্তোলন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে যান্ত্রিক নৌযান, চলছে মাছ শিকার । এতে হালদা নদীর মা মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর কচুখাইন, সার্কদা, মোকামী পাড়া, উরকির চর, আবুর খীল, মগদাই, কাগতিয়া কাসেম নগর, কাগতিয়া, পশ্চিম বিনাজুরী, দক্ষিন গহিরা, মোবরক খীল, মঘাশাস্ত্রি বড়–য়া পাড়া, অংকুরী ঘোনা, বদুর ঘোনা, কোতোয়ালী ঘোনা, নদীম পুর, পশ্চিম নদীম পুর, পশ্চিম ফতেহ নগর, হাটহাজারীর মাদ্রর্সায়, গড়দুয়ারা মেখল. লাঙ্গলমোড়া . নগরীর মোহরা এলাকায় পাওয়ার পাম্প ও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা । বালু উত্তোলন করার পর যান্ত্রিক নৌযানে করে বালু পরিবহন করছে প্রতিনিয়ত । হালাদা নদীর তীরে গড়ে উঠা ইটের ভাটার জালানী কাঠ কয়লা, ইটের ভাটায় তৈয়ারী ইট যান্ত্রিক নৌযানে করে পরিবহন করছে প্রতিনিয়ত । নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হালদা নদীর মোহনা রাউজানের কচুখাইন থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জাল বসিয়ে নৌকা নিয়ে বড়শীর সাহায্যে মাছ শিকার করছে এলাকার লোকজন । হালদা নদীর সুফলভোগী এক হাজার পাচঁশত আটার জনের মধ্যে প্রতিজনকে দশহাজার টাকা এক হাজার তিনশত পঞ্চাশ জনকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয় নব্বই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা খণ বিতর করা হয় । গতকাল ১০ এপিল বৃহস্পতিবার সকালে আরো একশত বত্রিশ জনকে প্রতিজন সুফলভোগীকে দশ হাজার টাকা করে তের লাখ বিশ হাজার টাকা ঋণ বিতরন করা হয়। একশত বত্রিশ জনকে প্রতিজন সুফলভোগীকে দশ হাজার টাকা করে তের লাখ বিশ হাজার টাকা ঋণ বিতরন করেন রেল মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । ঋণের টাকার চেক বিতরণ কালে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি জেলে ও মৎসজীবিদের উদ্যোশে বলেন, হালদা নদী জাতীয় সম্পদ । হালদা নদীর মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুমে হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব ও মাছ শিকার বন্দ্ব করতে হবে। প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে বালু উত্তোলন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে যান্ত্রিক নৌযান, মাছ শিকার করা প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা মৎস অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, হালদা নদীর মা মাছের প্রজনন বৃদ্বি করতে হালদা নদীর বালু মহর ইজারা না দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বার্হী অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ্। হালদা নদীর বালু মহল জেলা প্রশাসকের কার্যলয় থেকে ইজারা দেয় । হালদা নদীর বালু মহল ইজারা দেওয়া প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমা বলেন হালদা নদীর কর্নফুলী বালু মহল আগামী অর্থবৎসরের জন্য ইজারা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্য্যলয়ে ইজরাদার আবেদন করেন । ইজরাদার এখনো টাকা জমা দেয়নি । আগামী বৎসরের জন্য হালদা নদীর আর কোন বালু মহলের ইজারা নেওয়ার আবেদন কেউ করেনি বলে দাবী করে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমা বলেন, আগামী পহেলা বৈশাখের পর হালদা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা সব বালু মহল ইজরা না নিলে বন্দ্ব করে দেওয়া হবে ।