মা তোমার/ তোমাদের পায়ে আমার অর্ঘ্য

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ মে , ২০১৪ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, নিউজচিটাগাং২৪.কম।।ma1

১…
মা,
শুভেচ্ছা, সালাম, অভিনন্দন, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা সাথে বিশ্বের সব মাকেও। তোমাকে কি লিখব তুমিতো এমনিতেই আমার মনের ভাষা পড়তে পারো। শুধু আজ এটুকু বলি তুমি যে আমাই বলতে ক্লাসে ফাস্ট হতে হবে না ভালো মানুষ হও। তখন ছোট বন্ধুরা বলতো তোর মা কিরে তোকে ফাস্ট হতে বলে না, এর মানে কি? আমি তখন ভাবতাম কিন্তু উত্তর দিতে পারতাম না। তোমার কাছে জানতে চাইলে তুমি বলতে নিজেই এক সময় জানবি। আজ এর উত্তর আমার জানা। কলেজ যাওয়ার সময় আমাদের বাড়িতে কেউ এসে সাহায্যের জন্য হাত বাড়ালে আমাকে কলেজের যাতায়াত ও খরচের জন্য দেয়া টাকা নিয়ে তাকে দিয়ে বলতে তোর আজ কলেজ যেতে হবে না (এর জন্য তোমার উপর আমি রাগ করতাম )। তুই এমনিতেই অনেক বড় হবি। সে কথাও কিছুটা সত্য প্রমানিত হয়েছে। আজ যখন কোন একজন অজানা অচেনা বৃদ্ধা আমার মাথায় হাত দিয়ে আর্শিবাদ করে বলে তোমার জননী কেমন আছে? তিনি তো আমাদেরও মা। তখন প্রশান্তিতে বুক ভরে যায় নেমে আসে অনাবিল সুখ। এতো তোমারই জন্য…
আজিবন ভালো থাকো আর আমায় দোয়া করো যেন তোমার সপ্নের সে ভালো মানুষটি হতে পারি, মানুষের কল্যাণে থাকতে পারি তাদের পাশে-

২…
বিশ্ব মা দিবস (Mother’s Day)
মা, মাগো, জগতের সবচেয়ে মধুর ডাক। যার জন্য এই জগতের আলো-হাওয়ার মুখ দেখেছি আমরা, তিনি হলেন মা। আর আজ সে মাকে ঘিরেই বিশেষ একটি দিন মা দিবস। মা দিবসের মূল উদ্দেশ্য, মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া। যে মা জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন, তাঁকে শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশে এর আগে ব্যাপকভাবে দিবসটি পালিত না হলেও গণমাধ্যমে প্রচারের কল্যাণে বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিবসটি পালনের রেওয়াজ শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশেও ক্ষুদ্র পরিসরে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে। সামাজিক গণমাধ্যমের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেইসবুকে অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়ে মায়ের প্রতি ভালোবাসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

মা হচ্ছে এমন একটি শব্দ, যে শব্দটি এক স্বর্গীয় পুণ্যতায় হৃদয়-মনকে অমিয় সুধায় প্লাবিত করে। ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ মা। মায়ের চেয়ে পৃথিবীতে আপন কেহ নাই। কবির ভাষায়, ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেন ভাই/ ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’

একটি গোষ্ঠীর মতে এই দিনটির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রীসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে যেখানে গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেল-এর উদ্দেশ্যে পালন করা হত একটি উৎসব। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুব -এর সময়ে এবং তারপর রোমে আইডিস অফ মার্চ (১৫ই মার্চ) থেকে ১৮ই মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হত।
প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গিত আরো একটি ছুটির দিন ছিল, যদিও সেদিন মায়েদের উপহার দেওয়া হত।
মাদারিং সানডের মতো ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে বহু আচারানুষ্ঠান ছিল যেখানে মায়েদের এবং মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রবিবারকে আলাদা করে রাখা হত। মাদারিং সানডের অনুষ্ঠান খ্রিস্টানদের অ্যাংগ্লিকানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পঞ্জিকার অঙ্গ। ক্যাথলিক পঞ্জিকা অনুযায়ী এটিকে বলা হয় লেতারে সানডে যা লেন্টের সময়ে চতুর্থ রবিবারে পালন করা হয় ভার্জিন মেরি বা কুমারী মাতার ও “প্রধান গির্জার” সম্মানে। প্রথানুযায়ী দিনটিকে সূচিত করা হত প্রতিকী উপহার দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রান্না আর ধোয়া-পোছার মত মেয়েদের কাজগুলো বাড়ির অন্য কেউ করার মাধ্যমে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
মা দিবস ছাড়াও বহু দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয় ৮ই মার্চ।
জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত “মাদার্স ডে প্রক্লামেশন” বা “মা দিবসের ঘোষণাপত্র” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের গোড়ার দিকের প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে অন্যতম। আমেরিকান গৃহযুদ্ধ ও ফ্রাঙ্কো-প্রুশীয় যুদ্ধের নৃশংসতার বিরুদ্ধে ১৮৭০ সালে রচিত হোই-এর মা দিবসের ঘোষণাপত্রটি ছিল একটি শান্তিকামী প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক স্তরে সমাজকে গঠন করার ক্ষেত্রে নারীর একটি দায়িত্ব আছে, হোই-এর এই নারীবাদী বিশ্বাস ঘোষণাপত্রটির মধ্যে নিহিত ছিল।
আনা জার্ভিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর ও ওহাইওর মাঝামাঝি ওয়েবস্টার জংশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস সারা জীবন ব্যয় করেন অনাথ-আতুরের সেবায়। মেরি ১৯০৫ সালে মারা যান। লোকচক্ষুর অগোচরে কাজ করা মেরিকে সম্মান দিতে চাইলেন মেয়ে আনা জার্ভিস। অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচারণা শুরু করেন। সাত বছরের চেষ্টায় মা দিবস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে যেমন ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রোববার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে এবং বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্বের অনেক দেশে কেক কেটে মা দিবস উদযাপন করা হয়। তবে মা দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো, তাঁকে দুই কলম লেখার সময় হয় না। চকলেট উপহার দেওয়ার অর্থ হলো, তা নিজেই খেয়ে ফেলা।

বাংলা ভিশন ফাউন্ডেশন দিবসটি উপলক্ষে বিকাল ৫টায় ‘সুস্থ সমাজ গঠনে মায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে গভীরতম সম্পর্ক হলো মায়ের সঙ্গে সন্তানের। তাই যুগে যুগে মা সবচেয়ে আপনজন। আমাদের জীবনের গভীর সংকটকালে যাকে প্রথম স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা।
মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মুহুর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যেন এক সঙ্গে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সেজন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
শত বছর আগে ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক মা আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে চালু করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় দিবসটি এখন বিশ্বের একশোরও বেশি দেশে ‘বিশ্ব মা দিবস’ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।
সাধারণত সাদা কারনেশন ফুলকে মা দিবসের প্রতীক বিবেচনা করা হয়। এই দিনে সন্তানরা ফুল এবং নানা সামগ্রী উপহার দিয়ে এবং বাসায় কিংবা রেস্টুরেন্টে মায়ের সঙ্গে খাবার খেয়ে, অনেকেই ছুটি নিয়ে মায়ের একান্ত সান্নিধ্যে দিনটি কাটিয়ে দেয়।
মাকে শ্রদ্ধা আর ভালবাসা দেখাতে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে নেয়া অনেকের কাছেই সেভাবে গ্রহণযোগ্য না হলেও অনেকেই মনে করেন মাকে সম্মান দেখাতে, গভীরভাবে মাকে স্মরণ করতে আন্তর্জাতিক মা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে।

মা তোমার/ তোমাদের পায়ে আমার অর্ঘ্য …নিউজচিটাগাং২৪.কম’র পক্ষ থেকে তোমাদের শুভেচ্ছা-অভিনন্দন।


আরোও সংবাদ