মায়ের চরণ ছুয়ে নির্বাচনী লড়ায়ে নামলেন

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে বিমানযোগে চট্টগ্রামে এসে মায়ের পদধুলো নিয়ে এবং প্রয়াত বাবার কবর জেয়ারতের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। নগর আওয়ামী লীগের এ নেতাকে শুক্রবার রাতে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান আ জ ম নাছির। এসময় তাকে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলের ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

আ জ ম নাছির উদ্দিননির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তিনি কোনো ধরনের শোডাউন ছাড়া আসেন নগরীর আন্দরকিল্লায় অবস্থিত নিজ বাড়িতে। এরপর তিনি আন্দরকিল্লাস্থ নিজ বাড়িতে এসেই ছেলের অপেক্ষায় বসে থাকা মায়ের পদধুলো নেন। এরপর বাসায় কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর বেলা ১১টার দিকে শাহ আমানত (রহ) এর মাজার জেয়ারত করেন। এসময় তাকে উষ্ণ অভিনন্দনে সিক্ত করেন মাজারের আওলাদ শাহজাদা শরফুদ্দিন মো. শওকত আলী খান, শাহজাদা মো. বেলায়েত উল্লাহ খান, শাহজাদা মো. ফৌজুল কবির খান, শাহজাদা মো. ফৌজুল মবিন খান, প্যানেল মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী প্রমুখ।

সেখান থেকে নিজ বাসায় এসে তিনি মায়ের সঙ্গে দুপুরে খাবার গ্রহণ করেন। এরপর ২টার দিকে তিনি নাসিরাবাদ চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি কার্যালয়ে পৌঁছলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুরাগী সমর্থকরা তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়।

সেখান থেকে বিকেল ৪টার দিকে তিনি কদম মোবারক মসজিদ কবরস্থানে তার বাবা মরহুম সৈয়দ মঈনুদ্দিন হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তার বাবার কবর ছুঁয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তিনি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজ কার্যালয়ে যান।

Ctg photo 3(1)এদিকে বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের আ জ ম নাছির বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের নগরী গড়তে চট্টগ্রামবাসীর আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি। প্রকৃত সেবাপ্রাপ্তি এবং উন্নয়নে সমন্বয় সাধন করে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নিজের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। বিজয়ী হলে নগরবাসী বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণকে আমি আত্মার আত্মীয় মনে করি। যদি নির্বাচনে পরাজিত হই এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি বিশ্বাস করি কাজ করতে গেলে পদ-পদবী বা আসনের দরকার হয় না, জনগণের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকে যে কোনো অবস্থান থেকেই কাজ করা যায়।’

নাছির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গত দুই বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জরিপ, মিডিয়ার প্রতিবেদন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনসম্পৃক্ততার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমাকে প্রার্থী করেছেন। শুক্রবার গণভবনের বৈঠকে চট্টগ্রামের নেতাদের সামনে কেন আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে সেটি তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এখানে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আর কোনো মতভেদ থাকার কথা নয়। সকলে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হারানো নগর পিতার আসন পুনঃরুদ্ধার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাশী ছালাম ভাই, বিএসসি ভাই, এমপি লতিফ ভাইসহ অনেকে আমরা একসঙ্গে নভো এয়ারের ফ্লাইটে করে চট্টগ্রামে এসেছি। সাবইকে নিয়ে কালকে আমি বসবো। সবার পরামর্শে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবো। এরপর মহিউদ্দিন ভাইসহ সবাইকে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবো।’


আরোও সংবাদ