মালয়শিয়ার লাঙ্কাউয়ি বন্দর থেকে দুই নাবিকের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:২৫ অপরাহ্ণ

2 nabikঅপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি হোপের দুই নাবিকের স্বজনদের।এমভি হোপের দুই নাবিকের লাশের ‘সন্ধান’
মালয়শিয়ার লাঙ্কাউয়ি বন্দর থেকে দুই নাবিকের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা।

উদ্ধার হওয়া এ দুই লাশ এমভি হোপের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার নেজাম উদ্দীন ও অয়েলার আলী হোসেনের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে জাহাজের মালিকপক্ষ।

তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে উদ্ধার এ দুই লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তারা।

এজন্য মঙ্গলবার দুই নাবিকের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আনুমানিক দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। বর্তমানে এ দুই লাশ মালয়শিয়ার লাঙ্কাউয়ি সুলতানা বাহিয়া হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই ১৭ বাংলাদেশিসহ আন্দামান সাগরে দুর্ঘটনাকবলিত হয় এমভি হোপ। দুর্ঘটনার পর নয় নাবিককে জীবিত এবং দুই নাবিককে মৃত উদ্ধার করা হয়। বাকী ছয় নাবিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জাহাজের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ইন্টারপোর্ট মেরিটাইম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দীন আব্দুল কাদের সমকালকে বলেন, “২৮ জুলাই মালয়শিয়া থেকে দুই বাংলাদেশি নাবিকের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধার একটি লাশের লাইফ জ্যাকেটে আলী হোসেন এবং তার সাথে একটি ব্যাংক একাউন্ট দেখে এটি আলী হোসেনের লাশ বলেই মনে হচ্ছে।”

এছাড়া অপর লাশের গায়ে বয়েলার স্যুট ছিল। এটি সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ারের পোশাক। যেহেতু ঐ জাহাজে নেজাম উদ্দীনই একমাত্র সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার তাই এই লাশ তারই হতে পারে। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আনুমানিক দুই সপ্তাহ লাগতে পারে বলে তিনি আরো জানান।

আব্দুল কাদের বলেন, “এ ব্যাপারে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়। লাশ শনাক্ত করতে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলীকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে গিয়ে জ্যাকেটের উপর নাম এবং বয়েলার স্যুট দেখে লাশগুলো উক্ত দুই নাবিকের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন।”

এদিকে এ দুই নাবিকের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আবারও আশায় বুক বেঁধেছেন নিখোঁজ চার নাবিকের স্বজনরা। তাদের স্বজনদের লাশ এভাবে অন্য কোথাও আছে বলে ধারণা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে নিখোঁজ জাহাজের ইলেক্ট্রিশিয়ান সাদিম আলীর ভাই মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, “সবাই যেহেতু একইসাথে ছিলেন তাই এদের আশেপাশেই হয়তো অন্য নাবিকরাও ছিলেন। তাই আরেকটু তৎপর হলে বাকি নাবিকদের লাশও হয়তো মিলবে।”

প্রসঙ্গত, যে নাবিকরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তারা হলেন- ক্যাপ্টেন রাজীব চন্দ্র কর্মকার, ইলেক্ট্রিশিয়ান সাদিম আলী, সিনিয়র সী ম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এবং চীফ কুক নাসির উদ্দীন।
সূত্র-সমকাল