মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৩০ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন হবে অনলাইনে, সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবেন প্রার্থী নিজেই। ভিসা আবেদন সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে অস্পষ্টতা বা পরামর্শ নেয়া যাবে কল সেন্টারে ফোন করে। ভিসা প্রাপ্তির পর পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ঢাকাস্থ দূতাবাসে ছুটতে হবে না। প্রার্থীর সুবিধামতো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত ভিসা সেন্টার (সায়মন সেন্টার) থেকে তা সংগ্রহ করা যাবে। মার্কিন ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় এমন বড় ধরনের পরিবর্তন আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর আসছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত যুক্তরষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিশেল বন্ড। নতুন এ প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানাতে গতকাল রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে আয়োজন করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। সেখানে তিনি বলেন, নতুন ওই পদ্ধতি চালুর ফলে আবদনকারীদের ভিসা সংক্রান্ত সুবিধা বাড়বে। এটি আগের চেয়ে সহজও হবে। ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এলেও ফি-র ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন আসছে না বলে জানান তিনি। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সেবা সহজতর করতে এখন থেকে এইচএসবিসির যে কোন শাখায় ভিসা ফি জমা দেয়া যাবে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সহজতর নতুন পদ্ধতিতে আগ্রহীরা মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের জন্য তার তথ্য-উপাত্ত দেবেন। এ ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা থাকলে বা যে কোন বিষয় জানতে কল সেন্টারে ফোন করে সহযোগিতা নিতে পারবেন। রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কল সেন্টার খোলা থাকবে। নতুন ওয়েবসাইট ও নতুন কল সেন্টার-এর সহায়তায় বাংলা ও ইংরেজিতে এক জায়গা থেকে তথ্য দিতে হবে, যা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। আগের নিয়মে আবেদনকারীকে অনলাইনে আবেদন করলেও সশরীরে গিয়ে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাইমন ওভারসিজ থেকে নিতে হতো। যদিও সাইমন এখনও দূতাবাসের অংশীদার এবং কাগজপত্র জমা নেবে এবং পাসপোর্ট ফেরত দেবে। তবে পরিবর্তন এটিই- আবেদনকারীরা এখন সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিতে পারবেন। এককভাবে বা দলগতভাবে সাক্ষাৎকারসূচির জন্য অবেদন করতে পারবেন। ভিসা আবেদনপত্র পূর্ণ করে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পাওয়ার পর এইচএসবিসি ব্যাংক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম শাখায় ফি জমা দিতে পারবেন। আবেদনকারীরা ডলার বা টাকায় ফি জমা দিতে পারবেন এবং এক বছর মেয়াদী টাকা জমার রশিদ পাবেন। ৩১শে আগস্ট থেকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আর ফি গ্রহণ করছে না জানিয়ে বলা হয়, আবেদনকারী যারা এক বছর কম সময় আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-এ টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়েছেন তারা সেই রশিদ ব্যবহার করতে পারবেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বা এইচএসবিসি যে ব্যাংকই হোক ভিসা ফি-এর রশিদের মেয়াদ এক বছর বহাল থাকবে। ভিসা সেবা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, প্রতি বছরই আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর প্রায় ৩০ হাজার নন ইমিগ্রেন্ট ভিসা দেয়া হয়েছে। যেখানে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৭০ হাজার। স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় কয়েক শ’। কানাডা ও বৃটেন ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম সংকুচিত করে ফেলেছে। বাজেট কমাতে এটি করা হয়েছে বলে দেশ দু’টির তরফে ব্যাখা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা আগাম প্রশ্নটি আসে গতকালের ব্রিফিংয়ে। কনস্যুলার বিষয়ক মার্কিন প্রতিমন্ত্রী তার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আগামীতে সেবা আরও সহজ এবং বাড়ানোর দিকেই মনোযোগ তাদের। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাসহ কনস্যুলার ও প্রেস সেকশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ