মামলা হাসিনার বিরুদ্ধেই হবে: রফিকুল

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ জুন , ২০১৩ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রধামন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া শেয়ার বাজারের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেননি। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তকে দেশপ্রেমিক উপাধি দেননি। দুর্নীতি, লুণ্ঠন আপনারা করেছেন। তাই মামলা হলে আপনার বিরুদ্ধে হবে, খালেদা জিয়া কিছু করেননি, তার বিরুদ্ধে মামলা হবে না। তাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলে নিজের অবস্থা আরো নাজুক করবেন না।”

‘ফের তত্ত্বাবধায়ক এলে দুই নেত্রীকে জেলে যেতে হবে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবিধানিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘সন্ত্রাস দমন আইন (সংশোধন) জন অধিকার সংরক্ষণের সহায়ক নয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রফিকুল একথা বলেন। সাবেক সচিব মারগুব মোর্শেদ এতে সভাপতিত্ব করেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক কইরেন না। ওটা করে আপনার লাভ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আপনাকেও জেলে যেতে হবে। আমাকেও জেলে যেতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে নির্বাচন হবে না। রোজ কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র করবে।”
ব্যারিস্টার রফিকুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এতদিন বলতেন নির্দলীয় সরকার ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করবে। কিন্তু গতকাল তিনি বলছেন শুধু খালেদা জিয়া নয়, তত্ত্বাবধায়ক এলে তাকেও গ্রেফতার করবে। আমরা বলতে চাই দুর্নীতি, লুণ্ঠন আপনারা করেছেন, মামলা হলে আপনার বিরুদ্ধে হবে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলে নিজের অবস্থা আরো নাজুক করবেন না।”

বিরোধী দলীয় নেতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে রফিকুল বলেন, “আপনার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে আমার বন্ধু মানুষ ছিলেন। তিনি একজন রুচিসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তার কথা ভেবে এসব রুচিহীন কথাবার্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, শালীনভাবে কথা বলুন। আপনি যে ভাষায় কথা বলেন তা মানুষ ভাবতেও পারে না।”

সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ আইনটি সম্পূর্ণ মানবাধিকার পরিপন্থী। সংবিধান সবাইকে বাকস্বাধীনতা দিয়েছে অথচ এ অধিকারকে লজ্জাকরভাবে হরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে এবং তাদের পক্ষে রাজনীতি করে না তা প্রতিহত করতে এ আইন করা হয়েছে ।”

তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাশ হওয়ার পর চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ম্যাজিট্রেটকে আক্রমণ করেছে। ছাত্রলীগের লোকজন অস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছে। আমরা জানতে চাই, এসব ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা।”

এতোবড় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন তড়িঘড়ি করে সংশোধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিরোধী দলের ওপর আঘাত এবং বিদেশী শক্তিকে খুশি করার জন্য এ আইন করা হয়েছে বলেও পত্র-পত্রিকায় এসেছে। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে আইন না করে শুধু বিরোধী দলকে দমন করতে কোনো আইন করা হয় তার পরিণতি ভালো হবে না ।”

আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।