র‌্যাবকে মামলা তদন্তে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান

প্রকাশ:| বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

এসকে র‌্যাবকে মামলা তদন্তে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত জুডিশিয়াল কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এখন তো র‌্যাবের মামলা তদন্তের ক্ষমতা আছে। কিন্তু র‌্যাবের তদন্তে ত্রুটি পাওয়া যায়। আমি মনে করি র‌্যাবে যেসব পুলিশ অফিসার রিক্রুট করা হয়, যেহেতু তাদের মামলা তদন্তের বিষয়ে ট্রেনিং আছে, তাদের দিয়ে তদন্ত করলে সুফল পাওয়া যাবে। র‌্যাব তো স্বাধীনভাবে ‍দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এক্ষেত্রে আরও আন্তরিক, মনযোগী হওয়ার বিষয়টি র‌্যাবকে নিশ্চিত করতে হবে।

‘এখানে অহমিকার (ইগোজম) কোন ব্যাপার নয়। পাল্টাপাল্টি বিষয় নয়। পুলিশ বলে, সেখানে শুধু কমান্ড করে। এটা আমি শুনব কেন? আবার র‌্যাব বলে আরেক কথা। এসব অহমিকা বাদ দিতে হবে। আমরা একজন লোকের জীবন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বিষয়টি মানবিকতা দিয়ে দেখতে হবে। ’ বলেন প্রধান বিচারপতি।

‘দুর্নীতি যদি বন্ধ করা যায়, এটা সবক্ষেত্রে বলছি, তাহলে ২০২১ সাল কেন, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। ’ বলেন সিনহা।

র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশকেও মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের সিনিয়র সদস্যদের তাদের অধীনস্থদের দিকনির্দেশনা দেয়ারও নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ৭৩-৭৪ সালেও দেখেছি, আদালতের যে তিনজন সিনিয়র বিচারক তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সেনসিটিভ মামলাটা আপনি পরিচালনা করুন। তারা করতেন, টাকা নিতেন না। সিনিয়রদের দেখে জুনিয়ররা শিখত।

এছাড়া মামলার বাদি-আসামিপক্ষকে ডাক্তারি সনদ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্যও চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ডাক্তারকে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তার চেয়ারে বসে থাকেন। যিনি লাশ কাটেন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই কি কি প‍াইলি? সে বলে, স্যার এই এই পেয়েছি। ডাক্তার সনদ লিখে দিলেন। এটা পরিবর্তন করতে হবে।

‘সাক্ষ্যপ্রমাণ সব আছে অথচ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের কারণে শাস্তি দেয়া যাচ্ছেনা। অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। এরকম ঘটনা ঘটছে। এটা কাম্য নয়। ’ বলেন প্রধান বিচারপতি।

‘অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, এমনভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে যাতে তার অনুশোচনা হয়। ’ বলেন সিনহা।

স্পর্শকাতর মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকলে তা চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে জানানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার আইনের মামলা, সেনসিটিভ মামলার স্থগিতাদেশ দ্রুত তুলে নিয়ে সেগুলো বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়া হবে।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনে ত্রুটি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ভূমি সচিব, আইন সচিবকে ডেকে ত্রুটির কথা বলেছি। এটা সংশোধন করতে বলেছি। তারা নীতিগতভাবে সংশোধনে একমত হয়েছে। সংশোধন হয়ে গেলে মামলা নিষ্পত্তিতে আর বেশি সময় লাগবেনা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা আদালতগুলোর কার্যক্রম তদন্তে সিনিয়র বিচারকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, শুধুমাত্র আবেগের বশে কোর্ট করা হল, ভাল আইনজীবী নাই, রাস্তাঘাট নাই, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেনা, এসব কোর্ট রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে বিচারক-আইনজীবী-পুলিশসহ সর্বস্তরের জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার এবং আইনের ‍শাসন নিশ্চিতে সহযোগিতার আহ্বান ‍জানান প্রধান বিচারপতি।

চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ এস এম নূরুল হুদা’র সভাপতিত্বে কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর দায়রা জজ মো.শাহেনূর, বিভাগীয় কমিশনার মো.আব্দুল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো.রেজাউল করিম চৌধুরী, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো.মশিউর রহমান, সিএমএম শাহজাহান কবির, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল গণি, সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৭ এর পরিচালক লে.কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, মহানগর পিপি ফখরুদ্দিন চৌধুরী এবং জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম।