মানুষ খাঁচায় বন্দি, দেখছে পশুপাখী!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই , ২০১৮ সময় ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

আমরা সবাই “চিড়িয়াখানা” শব্দের সাথে পরিচিত। চিড়িয়াখানা মানে বলা হয় পশুদের পার্ক বা সমষ্টিতে পশুদের যেখানে রাখা হয় । সেখানে পশুদের খাঁচায় বন্ধি করে রাখা হয়, সাধারণ মানুষের তা দেখতে দেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের বংশবৃদ্ধিও করা হয়।

কিন্তু পৃথিবী জুড়ে কিছু শক্তিশালী দেশে এই নীতি পরিবর্তন করা হয়েছে । কিছু চিড়িয়াখানা প্রমান করেছে যে পশুরা খাঁচায় বন্দি জীবনের চেয়ে মুক্ত পরিবেশ বেশি পছন্দ করে ।

ছংগকিং শহরে। দর্শনার্থীদের একটি খাঁচায় বন্ধি করে রাখা হয় এবং বাঘ ও ভল্লুকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মানুষদের সেই পার্কে খাঁচার মতো করা এক গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়, একটা ছোট গর্ত থেকে বাঘ, সিংহ ও ভল্লুক দের খাবার দেওয়া হয়ে থাকে।

চিড়িয়াখানার মুখপাত্র চাং লিয়াং বললেন,
“আমরা আমাদের দর্শনার্থীদের শিহরিত করতে চাই, যখন বাঘ সিংহরা আক্রমণ করবে, বাইরে ঘুরে বেড়াবে, অবশ্যই কারুর কোন ক্ষতি হবেনা। দর্শনার্থীদের বাড়ন করে দেওয়া হয় যাতে তারা তাদের আঙুল বা হাত খাঁচার বাইরে না বার করে, কারন ক্ষুধার্ত বাঘ জানেনা কোনটা তার প্রাতরাশ আর কোনটা মানুষ।“
এই এক জিনিস করা হয়ে থাকে ওরানা ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক নিউজিল্যান্ড এবং মাঙ্কি জঙ্গল মায়ামিতে। ওরানা ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক, নিউজিল্যান্ডে ২০ জন দর্শনার্থীদেয় একদফা ভ্রমনের জন্য ১৫ পাউন্ড খরচা নেওয়া হয়, তাদের একটা খাঁচায় ঢোকানো হয়, একজন প্রহরী থাকে এবং তারা দেখে সিংহরা কিভাবে পালিত হচ্ছে।
এটা দেখতে অবিশ্বাস্য হতে পারে কিন্তু চায়নার লেহে লিডু ওয়াইল্ডলাইফ চিড়িয়াখানাতে অদলবদল করা হয়েছে মানুষ ও পশুদের সাধারণ জায়গা । যেখানে সবচেয়ে হিংস্র পশু বাইরে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেরায় আর দর্শনার্থীদের খাঁচার বন্দী করে গাড়ি করে পার্ক ঘোরানো হয়। মানুষ তাদের স্বপ্নের ক্ষুধার্ত পশুরাজ সিংহদের একদম সামনে দেখতে পায় ।

ভল্লুক পরিদর্শন করছে একটা হলুদ বাস।
চায়নার চিড়িয়াখানাতে একটা ভল্লুক পরিদর্শন করছে একটা হলুদ রঙের দর্শনীয় স্থানাদিদর্শন বাসকে, যেটা বেষ্টনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

ওরানা ওয়াইল্ডলাইফ, নিউজিল্যান্ড।
দর্শনার্থীদের এই ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে খাঁচায় রাখা হয় দেখার সময়।

খাবার উপহার দেওয়া হয়
খাঁচার মধ্যে থেকে দর্শনার্থীরা সিংহ ও বাঘদের খাবার দিতে পারে।

খাওয়ানো ট্রিপ
প্রত্যেকদিন সিংহদের এই খাওয়ানর ট্রিপের জন্য ৩০ ডলার প্রতিজন পিছু নেওয়া হয়। ওরানা ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক নিউজিল্যান্ডের একমাত্র খোলা চিড়িয়াখানা যেটা ৮০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
৭০ টা বিভিন্ন প্রজাতির ৪০০ টা জীব জানোয়ার এখানে দেখান হয়।

মাঙ্কি জঙ্গল মায়ামি
আর একটা চিড়িয়াখানা হল মাঙ্কি জঙ্গল, এটি তৈরি করা হয় ১৯৩৩ সালে এবং পার্কটি নতুন ভাবে তৈরি করা হয় ৩৩ একর জায়গা নিয়ে । সেখানে পশুদের সাধারণ জীবন যাপন করতে দেওয়া হয়।

সুড়ঙ্গ খাঁচা মাঙ্কি জঙ্গলে
দর্শনার্থীরা মায়ামিতে একটা সুড়ঙ্গ খাঁচার মধ্যে দিয়ে হাঁটে এবং হনুমানদের দেখে যারা এক গাছ থেকে আর এক গাছে লাফায়। এটা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা যা সাধারণ চিরিয়াখানায় দেখা যায় না।

হনুমানরা খাবারের জন্যে প্রতীক্ষা করছে
হনুমানরা এই বড় খাঁচার ওপরে উঠে আসে এবং খাবারের জন্যে প্রতীক্ষা করে।

আশ্চর্যজনক
এটা সত্যি এক বড় পদক্ষেপ চিরিয়াখানার কর্মকর্তাদের, এটা সত্যি বোঝা দরকার সভ্য পশু ( মানুষ ) যে পশুরা কি অনুভব করে যখন তারা খাঁচায় বন্ধি থাকে।

আপনারা কি করবেন?