‘মানুষকে জাগিয়ে তুলতে বইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

তিন দিনব্যাপী শরৎকালীন বই উৎসবের উদ্বোধন
শরৎকালীন বই আড্ডা

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী চট্টগ্রাম একাডেমির চেয়ারম্যান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেছেন, বই মানে আনন্দ, বই মানে সভ্যতা। মানব সভ্যতাই বই। বিশ্বও বইয়ের সৃষ্টি। বিশ্বে দুটো সমাজ আছে একটি অরভিত্তিক অন্যটা নিরর। অরভিত্তিক সমাজ লেখার মাধ্যমে, দর্শনের মাধ্যমে বিশ্বকে আলোকিত ও উন্নত করছে। তিনি বলেন, মানুষকে জাগানোর জন্য, উদ্দীপ্ত করার জন্য বইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সবকিছুর জন্যে বইয়ের কাছে আমাদের যেতে হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম একাডেমি আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী শরৎ বই উৎসবের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চেরাগী পাহাড় লুসাই ভবন সংলগ্ন চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক-মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফী। তিনি বই উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে, পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে, বই কেনায় উৎসাহিত করতে বই উৎসবের প্রয়োজন। বই মনের ভাব বিকশিত করে। বইয়ের কোন বিকল্প নেই। এর আগে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি বেলুন উড়িয়ে তিনদিনের শরৎকালীন বই উৎসবের উদ্বোধন করেন।
উৎসব আহবায়ক প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক নেছার আহমদ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রাবন্ধিক ডা. মো. রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার রিটন কুমার বড়ুয়া, সমাজসেবী লায়ন আবদুর রশীদ ও একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক কবি রাশেদ রউফ। আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব সচিব মো. জাহাঙ্গীর মিয়া।
বিকেলে রম্যলেখক সত্যব্রত বড়ুয়ার সভাপতিত্বে গান-কবিতা ও লেখক আড্ডায় অংশ নেন ভাষাবিজ্ঞানী ড. মনিরুজ্জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. বেনুপ্রসাদ বড়–য়া, শিক্ষক ও সংগঠক মেহের আফরোজ হাসিনা, শিশুসাহিত্যিক রহমান হাবীব, বেতার-ব্যক্তিত্ব মমতাজ আলী খান, প্রফেসর রীতা দত্ত, কবি আকতার হোসাইন, সুকুমার শীল, খালেদা আক্তার চৌধুরী, মানস পাল চৌধুরী, সৈয়দ খালেদুল অনোয়ার, জহুর-উশ শহীদ, শাফিন মাহমুদ, অধ্যাপক সুপ্রতিম বড়–য়া, তন্ময় পাল, ফাদার যোসেফ জীবন গমেজ, লেখক বিভুল কুমার চৌধুরী, শিক্ষক আবিদা সুলতানা চৌধুরী, সিরাজুল হক চৌধুরী, নিশাত হাসিনা শিরিন, লায়লা ইব্রাহিম বানু, কোহিনুর শাকি, সাহিদা রহমান মুন্নী, মুসলিম আলী জনি, সোহেল মারুফ, মাজহার হেলাল, অধ্যাপক প্রিয়শ্রী সেনগুপ্তা, ডা. সাহেলা আবেদীন, নুরুন্নাহার বেগম, সাংবাদিক আরিফ রায়হান। উৎসবে কবি, ছড়াকার ও শিল্পীরা কবিতা-ছড়া, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। উৎসবে চট্টগ্রামের প্রায় সব লেখকের বইয়ের প্রদর্শনী ও ৪০ শতাংশ কমিশনে বই কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আজকের অনুষ্ঠান : বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামে সাহিত্য চর্চা বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. মাহবুবুল হক। আলোচনা করবেন অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া, গল্পকার দীপক বড়–য়া, শিশুসাহিত্যিক অরুণ শীল, গল্পকার জিন্নাহ চৌধুরী ও কবি আবুল কালাম বেলাল। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম। রয়েছে কবি-ছড়া পাঠ,সংগীতানুষ্ঠান।