মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিল সিটি মেয়র

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৮ সময় ০৭:০২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন মানসিক সুস্বাস্থ্য ব্যতিত কোনো মানুষ তার সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না। এতে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্থ হয়। তাই উন্নয়নের নিয়ামক শক্তি মানুষের মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। যাতে করে চট্টগ্রাম নগর একটি মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার সকালে নগর ভবনে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে বিশ্বমানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৮ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র একথা বলেন। উৎস এর নির্বাহী সদস্য আহম্মদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ফারুক তাহের। সেন্ট্রাল হেলথ এডভোকেসি এসোসিয়েশন মা এর সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এবছরের প্রতিপাদ্যের আলোকে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন উৎস এর প্রোগ্রাম অফিসার রিপা পালিত। দিবসের প্রতিপাদ্য “পরিবর্তনশীল বিশ্বে যুব সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য” শীর্ষক এই আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চসিক এর কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, এডাব চট্টগ্রামের চেয়ারপার্সন জেসমিন সুলতানা পারু এবং মমতা এর নির্বাহী প্রধান আলহাজ্ব মো. রফিক আহম্মদ। মেয়র বলেন প্রস্তাবিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সরকারী এবং বেসরকারী পর্যায় থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি মনে করি নাগরিকদের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। উৎস এবং মা এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষেরা পরিবেশগত,পেশাগত তথা সামাজিকভাবে অবহেলিত ও নিগৃহিত। মানসিক রোগীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে সার্বিক উন্নয়ন সহায়ক শক্তি হিসেবে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন মানসিক রোগ একটি অসংক্রামক ব্যাধি। দেশে মানসিক রোগীর কারনে ব্যক্তিগত,পারিবারিক,পেশাগত ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানসিক রোগের কারনে কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় ও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ব্যহত হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে উৎস বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০১৮ এর প্রতিপাদ্য পরিবর্তণশীল বিশ্বে যুবসমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য শীর্ষক আলোচনা অত্যন্ত সময় উপযোগী বলে তিনি মনে করেন। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সহ সকল ধরনের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকার ও সুযোগের সমতা বিধানে বদ্ধপরিকর। তৃনমুল পর্যায়ে জনগনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অধিকতর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান সিটি মেয়র। সিভিল সার্জন সিদ্দিকী বলেন ঔষুধী চিকিৎসার তথৈবচ অবস্থা নিয়ে দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন ঔষুধহীন চিকিৎসা প্রদ্ধতির ব্যাপক প্রয়োগ। সেক্ষেত্রে সৃজনশীল শিল্পকলা ভিত্তিক সত:স্ফুর্ত মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কৌশল সাইকোড্রামা, সেসিওড্রামা,ড্রামাথেরাপি, আই থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, মাইম থেরাপি, ক্লাউনিং থেরাপি প্রয়োগে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন ডিজিটালাইজেশন এর নেতিবাচক ব্যবহার মানসিক বিপর্যস্থতা সৃষ্টি করে। তাই ইতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে শিশু-কিশোর সমাজকে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু বলেন যুব-সমাজ আমাদের প্রাণশক্তি। তাদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি মানসিক বিপর্যয় রোধ করতে হলে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। উল্লেখ্য দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতকে উন্নত করতে উৎস বিকলা থেরাপি প্রদানে একটি মডেল সংস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন অধিপরামর্শ করার জন্য দিয়াকোনিয়ার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেছে ‘মেন্টাল হেলথ এডভোকোসি এসোসিয়েশন মা।