মানবিক মূল্যবোধ লূণ্ঠিত হলে বিবেকবানদের এগিয়ে আসতে হয়

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

শরনার্থীদের জন্য ত্রাণ বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ড. অনুপম সেন

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মধ্যে আজ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমাহিলস্থ বাসভবনে স্থাপিত ত্রাণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আজ সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির ভাষণে আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক কল্যাণ ও আর্তমানবতার সেবায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ নিবেদিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলকালীন সময়ে এক কোটি বাঙালি ভারতে শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। আজ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা তাদের কষ্ট, ব্যথা-বেদনা অনুভব করি। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা যে কোন দেশে জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে অবস্থান নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। আজ সরকার ও প্রশাসন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য সব ধরনের মানবিক সাহায্য প্রদান করে যাচ্ছে। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও মানবিক সাহায্য প্রদানের দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে এসেছি। তিনি জানান আজ থেকে আগামী সাত দিন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মধ্যে রান্না করা খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণ সমাগ্রী প্রদান করে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, মানবিক মূল্যবোধ যখন লুণ্ঠিত হয় তখন কিছু মানুষ আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন এবং নিপীড়িত মানুষকে বুকে টেনে আনেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে ষোল কোটি মানুষ ভালো ভাবে বেঁচে বর্তে আছে। আমাদের খাবার থেকে ভাগ করে দিয়ে পাঁচ লাখ নিপীড়িত রোহিঙ্গাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো। এটা শেখ হাসিনার অসাধারণ প্রত্যয়। তার মতো মহিউদ্দিন চৌধুরীও সবসময় নিপীড়িত মানুষকে বুকে টেনে নেন। এই মানবিক গুণাবলি অত্যন্ত বিরল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আর্তমানবতার সেবার মাধ্যমে সামাজিক অঙ্গিকার পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের অনুকূলে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে উদ্যোগী হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছেন তারা নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার হয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে উদ্যোগী হয়েছেন। জাতিসংঘে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ এবং তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। এবং তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের প্রস্তাবিত রিপোর্ট বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি ও মানবতার আলোক বর্তিকা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ভেটেরেনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেছেন, বাঙালি অতিথি পরায়ন। আমরা দীর্ঘ দিন থেকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি এবং বরণ পোষণ চালাচ্ছি। তাদেরকে অবশ্যই স্বভূমে ফিরিয়ে নিতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা বলেছেন, আর্তমানবতার সেবায় মহিউদ্দিন চৌধুরী সবসময় নিবেদিত। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবা প্রদানে ধৈর্য্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি যা করছেন তা এক কথায় অন্যন্য। এই জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, যে কোন মানবিক সংকট ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রামবাসী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিপন্ন রোহিঙ্গাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মানবিক সাহায্য প্রদান সত্যিকার অর্থেই একটি অন্যন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ডুকমেন্টারী ও অন্যান্য জায়গার কিছু মানবিক বিপর্যয়ের ছবি পোষ্ট করে মহল বিশেষ সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। আমার এই পোস্টগুলো যাতে শেয়ার না করি। এই প্রোপাগান্ডার আরো একটি উদ্যেশ্য হলো আগামী নির্বাচনের আগে অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করা। এ থেকে আমাদেরকে সকলকে সাবধান হতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচায্য ড. শিরিন আক্তার ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের অন্যতম মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী, নারী নেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, সহ-দপ্তর সম্পাদক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সহ-প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব পান্টু লাল সাহা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আঞ্জুমান আরা আনজি, মমতাজ খান, কাউন্সিলর নীলু নাগ প্রমুখ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের উদ্যোগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সেখানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কর্মকর্তা চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার প্রশাসন খুরশিদুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ন আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, যুবলীগ সদস্য এস.এম সাইয়েদ সুমন, এডভোকেট সৈয়দ রবি, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এবং ছাত্র নেতা হাবিবুর রহমান তারেক। উল্লেখ্য যে, আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে তিন হাজার দুইশত পঞ্চাশ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।