মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাশকতার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান ২০ দলের

প্রকাশ:| রবিবার, ১ মার্চ , ২০১৫ সময় ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিচার বহির্ভুত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পেট্রল বোমাসহ সকল নাশকতার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। বিরোধী জোটের তরফে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চলমান শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল পর্যায়ে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে সকল কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়ে এসেছি। শাসক শ্রেণীই গণআন্দোলনকে কলুষিত করে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকা- হিসেবে রূপদানের কুৎসিত অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দমন-পীড়নের নোংরা অজুহাত সৃষ্টির কু-মানসেই সরকারী সন্ত্রাসীরা পেট্রলবোমাসহ সকল নাশকতা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী পেট্রলবোমা, আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেলসহ ধরা পড়লেও সরকারী নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পেট্রলবোমাবাজ সাজানো হচ্ছে; নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় জঘন্য কায়দায় স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের আহ্বান, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে সকল গণহত্যা, বিচার বহির্ভুত হত্যা, অপহরণ, পেট্রলবোমার নাশকতা, সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত ও বিচার করা হোক। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিচার বহির্ভুত হত্যা, গণহত্যা, জোরপূর্বক অপহরণ ও বিভিন্ন নৃশংস কায়দায় আন্দোলনকারীদের হত্যাকে জায়েজ করার জন্যই-নাশকতার এই নীল নক্শার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু শাসকশ্রেণীর স্মরণে রাখা উচিতÑরাষ্ট্রীয় শ্বেতসন্ত্রাস, গণহত্যা ও সহিংসতার বিভৎস পরিবেশ তৈরী করেও জনগণের ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন নস্যাৎ করা যাবে না। জনগণের প্রবল শক্তির কাছে নতিস্বীকার করা ছাড়া অবৈধ সরকারের কোন গত্যন্তর থাকবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, অজস্র নির্যাতনের শৃঙ্খল ভেঙ্গে এই আন্দোলন এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসরমান। এই আন্দোলন গণতন্ত্র মুক্তি ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। অত্যন্ত সংযম ও সাহসিকতার সাথে শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করার কন্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে বিজয় সুনিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। ব্যাপক ভিত্তিক সামাজিক পরিবর্তনে বৃহৎ জাতীয় স্পৃহা পূরণে আজ সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও গণমাধ্যমসহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে গড়ে উঠা এই আন্দোলনের মূলমন্ত্র। আন্দোলনের বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জাতীয় আকাঙ্খা পূরণ করা সম্ভব। অন্যথায় একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার কবলে নিপতিত হবে দেশ ও জাতি। তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের আওয়ামী উগ্র বাসনাই চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্তির পক্ষে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তই জাতীয় জীবনে দুর্যোগের উৎপত্তি। অতএব, দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে রাজনৈতিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যেই বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে চলমান অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আমি বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ সংগ্রামী দেশবাসীকে আহবান জানাচ্ছি।


আরোও সংবাদ