মানববন্ধন করেছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ২৭ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৮:২১ অপরাহ্ণ

আদালতের রায় মেনে সংগঠনের নিবন্ধন দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)।

শনিবার বিকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তারা। এতে গ্রামীণফোনের দেড় শতাধিক কর্মী অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীনফোন পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ বলেন, আদালত অবমাননা ও আইনভঙ্গ করা হচ্ছে। জিপিইইউয়ের নিবন্ধন দিতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। আশংকা কোনো মহল এখন অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত দাবি মানা না হলে আইনানুগ পদক্ষেপসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দেবো।

নিবন্ধন দাবির বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ বলেন, ২০১৬ সালের জুনে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের(জিপিইইউ) নিবন্ধনের আপিল মঞ্জুর করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বৈত বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা এবং সদস্য বিচারক গোলাম রব্বানি জিপিইইউ এর পক্ষে রায় দেন। আদালত ইউনিয়নের নিবন্ধন চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে শ্রম পরিচালককে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন।

কিন্তু এই রায়ের নকল পেতে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে জিপিইইউয়ের পক্ষে ৬ বারের বেশি আবেদন করলেও কোনো কপি দেয়া হয়নি। শেষে জিপিইইউয়ের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয় (১৭১৯৭/২০১৭)।  রিটের শুনানি শেষে আদালত এক মাসের মধ্যে রায়ের কপি প্রদানের জন্য শ্রম আপিল ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দেয়। অবশেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর বিগত ৯ জানুয়রি রায়ের কপি মেলে।

এরপর ১০ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের কাছে রেজিস্ট্রেশন প্রদানের জন্য আবেদন করার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটির এই নেতা অভিযোগ করেন, যেখানে শ্রম আইনের ১৮২ নং ধারা অনুয়ায়ী ৭ দিনের মধ্যে এই রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করার কথা যেখানে আজ ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সার্টিফিকেট দেয়া হয়নি। যা আদালত অবমাননা ও আইনভঙ্গের সামিল।

জিপিইইউ সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ইউনিয়ন গঠন হওয়ার পর হতে গ্রামীণফোনে একজন কর্মীও চাকরিচ্যুত হয়নি। ২০১২ সাল হতে এখন পর্যন্ত গ্রামীণফোনে যারা চাকরি ছেড়েছেন তারা স্বেচ্ছায় বেনিফিট নিয়ে গিয়েছেন। ইউনিয়ন জ্বালাও পোড়াওয়ের জন্য নয়। এই ধারণা অনেক পুরোনো। এখন আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হয়।

‘উপরের চাপ আছে, তাই হচ্ছে না। এই উপরটা কে বা কোথায়, তা আমরা জানতে চাই’-নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে বলেন ফজলুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীনফোন পিপলস কাউন্সিল, জিপিইইউসহ বিভিন্ন শ্রম সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

২০১২ সালে গ্রামীণফোন অ্যাপ্লয়িজ ইউনিয়ন নামে ট্রেড ইউনয়ন গঠন করা হয়।

জিপিইইউ গঠন হয় ২০১২ সালের ১৪ জুন। ২৩ জুন নিবন্ধনের জন্য শ্রম পরিচালকের কাছে আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম পরিচালক আবেদন বাতিল করে দেন ২৯ জুলাই। এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ আগস্ট  ২ নং  শ্রম আদালতে আপিল করে ইউনিয়ন।

এর পর আপিলের শুনানীতে বিব্রত বোধ করায় ২০১৪ সালের শেষে নাগাদ বিচারক মামলাটি শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের পঠিয়ে দেন। সেখানে আবেদন করা হয় শুনানীরর জন্য।  ২০১৫ সালের শুরুরে দিকে ইউনিয়ন নিজেদের পক্ষে রায় পায়।

এতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট তা আবার ট্রাইবুনালে অন্য বিচারকের আদালতে ফেরত পাঠায়। ট্রাইবুনাল হতে এটি যায় ১ নং শ্রম আদালতে।  সেখানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন শ্রম আদালত।

এর পর এই রায় নিয়ে ইউনিয়ন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করে। মামলাটিতে জিপিইইউ এর পক্ষে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ এবং বিপক্ষ শ্রম পরিচালক। গ্রামীনফোন আপীল মামলা নং- ৪৩/২০১৫।