মাধ্যমিক স্কুলর শ্রেণী কক্ষ কেজি স্কুলের দখলে!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৭ মার্চ , ২০১৮ সময় ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়িতে লেখাপড়ার পরিবেশ চরম বিপর্যয়

শওকত হোসেন করিম, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

ফটিকছড়ির শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭টি শ্রেণী কক্ষ দখল করে বেআইনী ভাবে গড়ে উঠেছে স্ট্যান্ডার্ড আইডিয়াল কেজি স্কুল এতে উচ্চ বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেত মহল বানিজ্যিক ওই কেজি স্কুল প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলরা লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বই, ব্যাগ হাতে নিয়ে মাঠে বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট। এসময় তাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে বসে শ্রেণীগত কাজ বা লেখা-পড়ার প্র¯ত্ততি নেওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে স্কুর মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দাড়িয়ে কেন প্রশ্ন করা হলে শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাইদুল করিম জানান, আমরা দূর থেকে হেঁটে এসে আমাদের শ্রেণী কক্ষে বসতে পারি না। মাঠে বা স্কুলের পাশে গাছের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে থাকি। বৃষ্টি সময় স্কুল বারান্দায় হিজিবিজি করে শ্রেনী কক্ষে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকি। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে আমরা একটুও লেখা-পড়ার প্রস্তুতি নিতে পারি না। এতে আমাদের লেখা-পড়া ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
অপর দুই শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণী রিপন চন্দ্র নাথ ও জান্নাতুল নিছা জানান, অনেকে দূর থেকে হেঁটে বা সাইকেলে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শ্রেণী কক্ষে এসে লেখা-পড়া তো পূরের কথা, বসারও পরিবেশ নেই। কারণ, আমাদের ক্লাসেই কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে তখন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০০০ সালে স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী লোকজন সম্পূর্ণ বানিজ্যিক ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্টানের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কেজি স্কুলটি খুলে বসে। তখন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি বাঁধা দিলে সাময়িক শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলে দখল করে নিয়েছে বিদ্যালয়টি ৭টি শ্রেণী কক্ষ।
এব্যাপারে কেজি স্কুলের পরিচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, শাহনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে লিখিত চুক্তি আছে। সে হিসেবে আমরা তাদের শ্রেনী কক্ষ গুলি ব্যবহার করছি।
জানতে চাইলে শাহনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, আমরা তাদেরকে কেজি স্কুল সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছি, কেজি স্কুলের পক্ষ থেকে সময় চেয়েছে, তবে কোন লিখিত চুক্তি হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন শাহনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে কেজি স্কুলের কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি, এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 


আরোও সংবাদ