মাদক : টেকনাফে যুব সমাজ ধংসের মুখে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১০ মার্চ , ২০১৫ সময় ১১:১৮ অপরাহ্ণ

ফরহাদ রহমান, টেকনাফ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ মিয়ানমার আন্তর্জাতিক নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট (জলসীমানা) অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে বানের ¯্রােতের ন্যায় (সকল অপকর্মের মূল) ইয়াবা ও মাদক টেকনাফ সীমান্তের চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে। মাদক প্রবেশের মূল বাহন হচ্ছে দুদেশের জেলে। দুদেশের জেলের হাত বদল করে ইয়াবা সূকৌশলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমার টেকনাফ ও মংডু সীমান্ত পর্যায়ে একাদিক মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব ইয়াবা বা মাদক দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে আতœীয়তার বন্ধন এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বেশী পাচার হয়ে থাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিয়ানামারের আরাকান রাজ্যের মংডু সীমান্ত পর্যায়ে মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট ইয়াবার চালান সে দেশের জেলেদের মাধ্যমে নাফ নদীর জিরোপয়েন্টে নিয়ে এসে বাংলাদেশী টেকনাফ সীমান্ত জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল করে দেয়। এসব ইয়াবা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্যবাহীট্রাকের আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে গত ৬ বছরে ইয়াবা ব্যবসা করে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং ইউনিয়ন এবং টেকনাফ পৌর এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যাহা অতীতে গঠেনী। সূত্র মতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অর্থনীতিবিদ জানান, টেকনাফ সীমান্তের যাদের নির্ধারিত কোন ধরনের আয়ের উৎস্য নেই, তারা গত ৭ বছরে কিভাবে হঠাৎ করে টাকার পাহাড় এবং জীবন যাত্রার মান বদলে গেল, তাহা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নচেৎ এর প্রভাব পড়বে যুব সমাজের উপর এবং হয়ে যাবে যুব সমাজ বিপদগামী। অবনতি হবে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি। ইয়াবার চালান সহ পাচারকারীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হবার পর তারা আইনের ফাঁক ফোকার এবং ধারা বাণিজ্যের মাধ্যমে চলে আসার পর ফের জড়িত হয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়। ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৭৬৪ জন মাদক পাচারকারী নামের তালিকা প্রনয়ন করা হলে ও এর প্রভাব পড়ছেনা সীমান্ত এলাকায়। এরা স্থল পথের পরিবর্তে সাগর পথকে ইয়াবা পাচারের জন্য নরাপদ হিসাবে বেচে নিয়েছে। টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) চলতি বছর জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী এ দুই মাসে স্থল ও নৌ-পথে পৃথক অভিযানে ৮ লক্ষ ২ হাজার ৫৯০ পিস ইয়াবা আটক করেছে।

যার মূল্য ২৪ কোটি ৭৭ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা। মামলা হয়েছে ৩১টি। ধৃত আসামী ৪৬ জন ও পলাতক আসামী ১৩ জন। অপর এক সূত্রে জানা যায়, দেশের রাজধানীতে দৈনিক ৩ থেকে ৪ লাখ ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। এসব চাহিদা পূরণ করে বেশীর ভাগ টেকনাফ সীমান্তের আলোচিত ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।