মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় ৫ বছরের আইমানকে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১ জুলাই , ২০১৮ সময় ০৯:৪২ অপরাহ্ণ

বোয়ালখালীতে শিশু আইমান এর ময়না তদন্তের প্রতিবেদন

বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
……………………….
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ৫ বছর বয়সী শিশু আইমান হক কায়েপ হত্যার রহস্যের জট খুলছে। লাশ উদ্ধারের দীর্ঘ সাড়ে ৭মাস পর বোয়ালখালী থানায় পৌঁছেছে আইমানের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন। এতে আইমানের মাথায় আঘাতের ফলে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জট খুলতে শুরু করেছে আলোচিত এ হত্যাকান্ডের।

ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেও কিভাবে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে সে রহস্য এখনো উ˜্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে আইমানকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্ঠা করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান মিল্টন জানান, মাথায় আঘাত করে আইমানের মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল ঘাতকরা। এরপর আইমানের মরদেহ গুম করারও চেষ্ঠা করেছিলো তারা। এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না।

নিহত আইমান বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব গোমদন্ডী দরপপাড়া বদরুছ মেহের চেয়ারম্যান বাড়ীর এজাহারুল হকের ছেলে।

২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আইমান ঘর থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি দাবি করে পরদিন শুক্রবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেছিলেন আইমানের চাচাতো ভাই মো. শওকত হোসাইন। নিখোঁজের দুইদিনপর ১১ নভেম্বর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে আইমানের লাশ পাওয়া যায়।

ওই সময় আইমানকে জ্বীনে মেরে রান্না ঘরে রেখে গেছে বলে দাবি করেন পরিবার সদস্যরা। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী আবু। ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য এডিএম কোর্টে আবেদন করেছিল আইমানের পরিবার। এডিএম কোর্টের অনুমতি না পাওয়ায় পুলিশ আইমানের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছিল।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমাংশু কুমার দাস রানা বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার আলামত ও সম্ভাব্য তথ্য উপাত্তকে সামনে রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা হবে বলেও জানান ওসি।

সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, আইমানের চোখ খোলা অবস্থায় ছিলো, মাথা, মুখ, ঠোঁট ফুলা, জিহ্বা দাঁত দিয়ে কামড়ানো অবস্থায় ছিলো। নাক মুখ দিয়ে রক্ত নির্গত হয়েছিল। মলদ্বারে সামান্য মল বের হয়েছিল। এছাড়া শরীরের অন্যান্যস্থানে পচন ধরে গিয়েছিল।

প্রতিবেশিরা জানান, আইমানের পিতা চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। আইমানের বড় চাচা পরিবার নিয়ে পৃথক বসবাস করলেও বাকিরা যৌথভাবে থাকেন। আইমানের পিতা এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন ও চাচারা সবাই প্রবাসী। আইমানের পিতা এজাহারুল হক গত ৩০ অক্টোবর দ্বিতীয় সন্তানের জনক হন। এ নিয়ে আনন্দে মেতেছিল পরিবারটি। আইমান নিখোঁজ ও অতপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ম্লান হয়ে যায় সব আনন্দ আয়োজন।