মাথাপিছু ঋনের বোঝা কত পরিস্কার করুন: মাওলা চৌধুরী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ২৬ মার্চ , ২০১৮ সময় ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

 

উন্নয়নশীল দেশের প্রচারনা যেন শাক দিয়ে মাছ ডাকার মতো। যে দেশে এখনো সত্যিকার অর্থে বাড়েনি মানুষের মাথাপিছু আয়, সেখানে উন্নয়নশীল বলা বা সে কাতারে ওঠার কাগজে চেষ্টা-বড়ই বেমানান বলে মন্তব্য করেছেন গণদলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চেষ্টায় জাতি খুশি, কিন্তু দেশে মাথাপিছু ঋণের বোঝা কত, তা স্পষ্ট করতে হবে।

সোমবার ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বেড়েছে বলে যে প্রচারনা চালানো হচ্ছে, তা শতকরা ১০ ভাগের নীচে। তাও আবার এদের বেশিরভাগ বিত্ত-বৈভ ও অবৈধপন্থায় অর্থনৈতিক মাপকাঠির বাইরে সম্পদের মালিক। যারা কোন ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের মাথাপিছু আয়, দ্রব্যমুল্যের সঙ্গে সঙ্গতি নেই। উপার্জনক্ষম ৯০ শতাংশ এসব মানুষ ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে শু করে নতুন বছর।

উল্টো উপার্জনক্ষম মানুষের একটা বড় অংশ ঘন ঘন চাকরিচ্যুত হয়ে বেকার হচ্ছেন প্রতি বছর। এতে করে বাড়ছে ঋনের বোঝা। তার উপর শিক্ষিত বেকার তো আছেই। এ সংখ্যাও বাড়ছে বছর বছর। এটা কোনভাবেই উন্নয়নশীল দেশের নমুনা হতে পারে না। ব্যাংক-বীমা লুটপাট করে এক কোটি লোক সম্পদের মালিক হলেই উন্নয়নশীল দেশ বলা যায় না।

স্বাধীনতার বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণদল চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর দেশের স্বার্বভৌমত্বের উপর আঘাত সহ্য করার নয়। তাও আবার মিয়ানমারের মতো দেশ,সীমান্তে স্থলসীমা লঙ্ঘন করছে। দিচ্ছে হুমকি-ধামকি। বাংলাদেশের আকাশ ও সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন করে মহড়া দিচ্ছে। যা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। এটা মেনে নেয়া যায় না। যে বাঙালী বড় বড় মারনাস্ত্র মোকাবিলা করে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে জাতিকে এসব হুমকি-ধামকি দেখানো স্বার্বভৌমত্বে আঘাতের সামিল।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ানো একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও সুসজ্জিত সশস্ত্রবাহিনী জাতির গর্ব। এমন একটি সশস্ত্রবাহিনীর শক্তি নিয়ে মিয়ানমানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন গণদলের যুগ্ম মহাসচিব নুরুল কাদের চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির, মহিলা সম্পাদক তাইফুন নাহার রোজি,জান্নাতুর নুর নেছা ববি,শারমিন আক্তার,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ গণদলের সভাপতি আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ প্রমূখ।