মাতাল স্বামীর নির্যাতনের রাবেয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১১:০৬ অপরাহ্ণ

রাউজান প্রতিনিধিঃ
রাবেয়াদুই বছর আগে বিয়ের যৌতুকের বকেয়া থাকা দশ হাজার টাকা উঁসুল করতে না পেরে রাবেয়া আকতার সনি(২৫) নামের এক গৃহধুকে মাতাল স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা মেরে গুরুতর আহত করেছে। এই গৃহবধুকে পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। নির্যাতনে আহত গৃহবধু রাউজান পূর্বগুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামের মৃত ছৈয়দ বেল্লাল আহমদের কন্যা। তাকে দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছিল শহরের চান্দগাও এলাকার পাঠানিয়া গোদা মহল্লার আবদুস শুক্কুরের পুত্র কাঠ মিস্ত্রি আবদুর রহিমকে। তাদের সংসারে নাবিলা নামের এক বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। রাবেয়ার এক ভাই মোহাম্মদ মিয়া অভিযোগ করে বলেছেন তার বোনের বিয়ে সময় অন্যান্য যৌতুকের সাথে স্বামীকে ৬০ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে দফে দফে দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার টাকার জন্য তার উপর সব সময় নির্যাতন চালিয়ে আসছে মাতাল স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত ১ আগষ্ট রাতে স্বামী আবদুর রহীম মাতাল অবস্থায় ঘরে এসে যৌতুকের বকেয়া ১০ হাজার টাকা এনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দেয়। এই সময়ে গরীর ভাইদের পক্ষে টাকা প্রদান করে দেয়া সম্ভব নয় জানালে স্বামীসহ শাশুর শাশুরী তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ রাবেয়ার উপর ঝাপিয়ে পড়ে শাররীক নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় রাবেয়ার আর্তচিৎকার শুনে জনৈক প্রতিবেশি ফোন করে রাবেয়ার ভাইকে ঘটনা জানায়। রাবেয়ার দুই ভাই রাতে বোনকে উদ্ধার করতে গেলে মাতাল আবদুর রহীমসহ তার পরিবারের সদস্য একজোট হয়ে রাবেয়ার ভাইদের মেরে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এই অবস্থায় রাবেয়ার অসহায় ভাইয়েরা ২ আগষ্ট সকালে পাঁশলাইশ থানায় গিয়ে ঘটনা জানায়। তারা পুলিশের সাহার্য্য চেয়ে সাধারণ ডাইরী করে। পুলিশ ডাইরীর সূত্র ধরে রাবেয়ার শাশুর বাড়ীতে যায়। আহত রাবেয়াকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা নিলে আবদুর রহিমসহ তার অনুসারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এসময় পুলিশ বাধাদানকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছঁড়তে বাধ্য হয় বলে স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় রাবেয়াকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে রাবেয়া চিকিৎসাধীন আছে ।