মাতামুহুরীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ জুলাই , ২০১৮ সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে গিয়ে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সবাই স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্র। নদীর চরে দুরন্তপনা একদল কিশোর ফুটবল খেলে নদীতে স্নান করতে নেমে পড়ে। এসময় চোরাবালিতে আটকে পড়লে নদীতে তলিয়ে যায় এসব কিশোর। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গাস্থ মাতামুহুরী সেতুর নীচে মর্মান্তিক এঘটনা ঘটে। গতকাল বিকেল থেকে রাত ১১ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ৫জন কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। মৃত ৫ কিশোরই চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গাস্থ চকরিয়া গ্রামার স্কুলেরই ছাত্র। তন্মধ্যে চারজন দশম শ্রেণির এবং অপর শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির। এঘটনায় পুরো চকরিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসব শিক্ষার্থীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নদী তীরে তাদের স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

সলিল সমাধি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো–চকরিয়া গ্রামার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ও চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গা আনোয়ার হোসাইনের দুই পুত্র আমিনুল হোসাইন এমশাদ এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারার শওকত আলীর ছেলে মো. ফরহান আলী, একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জলি ভট্টাচার্য্যের পুত্র তুর্য ভট্টাচার্য্য ও চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের পুত্র দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইয়্যিদ জাওয়াদ আর্ভি।

এপ্রসঙ্গে ঘটনার পর পরই গতকাল বিকেলে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শেষে স্কুলের একদল শিক্ষার্থী মাতামুহুরী নদীর চরে ফুটবল খেলতে যায়। ফুটবল খেলা শেষে তারা নদীতে গোসল করতে নামলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে আমার নিজের সন্তানও রয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্নস্থানে তল্লাশি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নিখোঁজের প্রায় চার ঘন্টা পর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করা হয়। তন্মধ্যে প্রথমে জেলের জালে আটকা পড়ে এক ছাত্রের মরদেহ। তিনি আরো জানান, গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত একে একে ৫জন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, মাতামুহুরী নদীতে নিখোঁজের পর পরই স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিখোঁজ ছাত্রদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। কিন্তু জেলায় প্রশিক্ষিত কোন ডুবুরি না থাকায় কোন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধারে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।