মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী যুব লীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:১৭ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী যুব লীগ, পৌর ও সকল ইউনিয়ন শাখার যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, কেক কাটা ও যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুব লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ বাবু কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এম.পি। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু রণবিক্রম ত্রিপুরা, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুব লীগের সদস্য, সাবেক ছাত্র নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, মাটিরাঙ্গা পৌরসভা মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম খন্দকারের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান যুব বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটি বাবু কালা চাঁদ বনিক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ এরশাদুজ্জামান, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু সুভাষ চাকমা, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা যুব লীগের সভাপতি বাবু যতন কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক কে.এম. ইসমাইল হোসেন।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, যুব লীগের ইতিহাস স্বাধীনতার গৌরময় ইতিহাস, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংগঠন। ১৯৭২ সালে ১১ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নির্দেশে যুব লীগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, কলামিষ্ট, দার্শনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনিকে যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান করে যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশে যুব সমাজকে এগিয়ে আসার লক্ষ্যে যুব লীগ প্রতিষ্ঠাতা করেন। যুব লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইতিহাস বিকৃতি থেকে জাতিকে মুক্ত করতে এবং ৭৫’র ১৫ই আগষ্টের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ তারঁ পুরো পরিবারকে এবং শেখ ফজলুল মনিকে হত্যা করে জিয়া সরকার যখন আওয়ামী লীগকে দেশ থেকে বিতাড়ীত করতে চেয়েছিল ঠিক সেই সময় প্রথম রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন যুব লীগের নেতৃবৃন্দরা। যুব লীগের নেতৃবৃন্দরা জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের জন্য সারা বাংলাদেশে পুনঃসংগঠিত করেছিলেন এবং ১৯৮১ সালে বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তখন ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান বন্দর থেকে ৩২ ধানমন্ডি পর্যন্ত মানব প্রাচির সৃষ্টি করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাসায় পৌঁছান সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে এবং ৯০’র সৈরচার আন্দোলনে যুব লীগ কর্মী নুর হোসেনের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম গণতন্ত্র। ৯১, ৯৫ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বি.এন.পি-জামাত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের নেতৃবৃন্দ। ১/১১ এর সময় ঢাকা সহ সারা বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য জীবন বাজি রেখে মিছিল মিটিং করেছিল। বর্তমান জননেত্রী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে এবং ভিশন ২০/২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুব লীগ নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। দেশের যে কোন দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুব লীগের ভূমিকা প্রশংসনীয়। যুব লীগ একটি মেধা নির্ভর ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে বিকশিত করার লক্ষ্যে যুব লীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ওমর ফারুক চৌধুরী প্রকাশনাও বের করেন। তার জন্য যুব সমাজ তাকে ধন্যবাদ জানান। পরিশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।