মাঝিরঘাটের ঘটনা জেমবি মিনহাজুল’র স্বীকারোক্তি

প্রকাশ:| শনিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

জেএমবি মিনহাজুল
টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার জেএমবি সদস্য মিনহাজুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবদুল কাদেরের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রশিকিউশন) কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান বলেন, মিনহাজুল ইসলাম ওরফে সজিব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে মাঝিরঘাটের ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। এছাড়া কর্ণফুলী থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায়ও সজিবকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান বলেন, ওই আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য রোববার সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। শুক্রবার ভোরের দিকে মিনহাজুল ইসলাম ওরফে সাজিল ওরফে সজিবকে (২৪) টাঙ্গাইলের নাগরপুরের খালার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার সজিব চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মধ্যম সোনাপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন দুলালের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সাজিবকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেনেড বিষ্ফোরণ ঘটায় জেএমবি সদস্যরা। এতে মো. রফিক ও মো. রবিউল নামের দুই জেএমবি সদস্য মারা যায়।

এ ঘটনায় আহত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাহা করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সত্য গোপাল ভৌমিক দুই দিন পর মারা যান। ৫ অক্টোবর নগরীর মাদরবাড়ি ও অক্সিজেন এলাকা থেকে জেএমবি’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ডার বুলবুল আহমেদ সরকার ওরফে আপেল ওরফে ফুয়াদ ওরফে মেহেদী ওরফে রকি (২৬), মো. সুজন ওরফে বাবুকে (২৫), মাহবুবুর রহমান ওরফে খোকন (৩০), মো. শাহজাহান ওরফে কাজলকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন বিকালে কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর আজিমপাড়া এলাকার হাজী নুর আহম্মদ টাওয়ারের নিচতলার জেএমবি’র ‘সামরিক শাখার প্রধান’ তৌফিকুল ইসলাম ওরফে জাবেদ ওরফে রানার বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় সেখান থেকে ১২০ রাউন্ড গুলি, নয়টি গ্রেনেড, বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এসময় জাবেদ পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ার চেষ্টা করেছিল। ৬ অক্টোবর ভোরে জাবেদকে নিয়ে অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকায় অভিযানে গেলে গ্রেনেড বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় কথিত ফকির ন্যাংটা মামু ও তার খাদেম আব্দুল কাদেরকে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে জেএমবি সদস্য মো. সুজন ওরফে বাবু।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফুয়াদ স্বীকার করে মাঝিরঘাটের ঘটনায় জেএমবির আট সদস্য অংশ নিয়েছিল।


আরোও সংবাদ