মাছ ও সবজি চাষ

প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

শ্যামনগর উপজেলার কদমতলা গ্রামে মা বাবা স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সুভাষের ছোট সংসার। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সীমিত মাছ ও সবজি চাষউপার্জনে কোন রকম সংসার চলছিল। হঠাত্ সর্বনাশা আইলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সুভাষের সুখের সংসার। জলোচ্ছ্বাসে পানিতে ভেসে যায় বসতঘর। হতাশার কালোমেঘ ভর করে সুভাষের কাঁধে। কিন্তু অদম্য সাহস ও একাগ্রতা দমাতে পারেনি সুভাষের পথচলাকে। স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের সহায়তা ও পরামর্শে মাত্র ১৫ কাঠা জমিতে পরিকল্পিতভাবে ধান, মাছ ও সবজি চাষ করে সংসারের মোড় ঘুরিয়েছে সে। জানা যায়, পুকুরে পরিত্যক্ত আইলে সবজি চাষ করা যায় জানতেন না। সংসারের দৈন্যতা দেখে উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন হাত বাড়িয়ে দেয়। যথারীতি সংস্থার মাসিক সভায় উপস্থিত হয়ে ধান মাছ ও সবজি চাষ সম্পর্কে সে ধারণা নেয়। এক পর্যায়ে সুশীলনের পরিবর্তন প্রকল্পের পরামর্শ ,প্রযুক্তি, সহযোগিতা ও পরিকল্পনা নিয়ে সে কাজ শুরু করে।

সুভাষ জানান, ১৫ কাঠা জায়গায় পুকুর খনন করে চারিদিকে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাঁধ দেই। বাঁধের উপরিভাগ সমান্তরাল করে বর্ষকালীন ঢেড়স, লাউ, বরবটি , ঝিঙা, ঝাল, পুঁইশাক ও বেগুন লাগান। জৈব কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করে যথাযথ পরিচর্যা করায় অল্প দিনে ক্ষেতে সবজিতে ভরে ওঠে। সবজি চাষের পাশাপাশি পুকুরে মাছের চাষও করেছেন।

জায়গার একধারে বর্ষকালীন আমন ধানের চাষ হচ্ছে। ক্ষেতে উত্পাদিত সবজি এবং পুকুরের মাছ বিক্রি করে মাসে ১০/১২ হাজার টাকা উপার্জন হয়। উত্পাদিত ধানে সারা বছরের চাহিদা পূরণ হবে বলে সে জানায়। সীমিত জায়গায় পরিকল্পিত ভাবে ধান মাছ ও সবজি চাষ করে সুভাষ ওই গ্রামের সবাইকে তাক লাগিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সে এখন সুখেই আছে। তার দেখাদেখি ওই গ্রামের অনেকেই সীমিত জায়গায় পরিকল্পনা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছে।