মাঘের বৃষ্টি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৮:০৪ অপরাহ্ণ

‘মাঘের শীতে বাঘ ডাকে’- এমন প্রবাদ থাকলেও চট্টগ্রামে বাঘ ডাকার মতো শীতের প্রকোপ এখন নেই। তাই বলে শীত যে একেবারে উধাও তা নয়। মাঝারি থেকে ঘন কূয়াশার চাদরে শীতের হিমেল হাওয়ায় ঠিকই শিহরিত হয়ে চলছে ভোরের পথিক।

শুক্রবার ছুটির দিনে যেন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি কিছু। সকাল থেকেই শীতের সঙ্গে আকাশ থেকে নেমেছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আচমকা এই গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে যায় নগরীর রাস্তা-ঘাট।

ছাতা হাতে বের না হওয়ায় নগরীর সড়কগুলোতে অনেককে দেখা গেছে কাঁকভেজা হয়ে ফিরতে। তবে, সকালের আকাশ দেখেই যারা ছাতা হাতে বের হয়েছিলেন তাদের যেন এবারের মতো রক্ষা।

শীতের সঙ্গে গুঁড়ি বৃষ্টিতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী শ্রেণীহীন মানুষ আর শ্রমজীবীদের। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি যেন তাদের আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তাদের অসহায়তা, সামাজিক অবস্থার কথা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ জানান, স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বাতাসের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে আসা বাতাসের সংমিশ্রণে গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা দিয়েছে। শনিবার থেকে তা কমতে শুরু করবে।

তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত এক মিলিমিটারের কিছু কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে নগরীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার।

খনার বচনে আছে, ‘যদি বর্ষে মাঘের দেবা/রাজা ছাড়ে প্রজার সেবা’ অর্থাৎ মাঘ মাসে যদি বৃষ্টি হয়, তবে রাজাকে প্রজার সেবা আর করতে হয় না, কারণ দেশে প্রচুর শস্য জন্মে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর যাই বলুক, হরতাল-অবরোধে মাঘ মাসের শুরুর এই গুঁড়ি বৃষ্টি যেন বর্ষণ হয়ে দেশে শান্তি নিয়ে আসে। হরতাল-অবরোধে বিধ্বস্ত মানুষের কাছে খনার বচনের সেই আশাবাদ সত্যি হোক- ‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজার পূণ্য দেশ’।


আরোও সংবাদ