‘মা’কে হত্যার চেষ্টায় স্বস্ত্রীক ৩ ছেলে শ্রীঘরে

প্রকাশ:| রবিবার, ২ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

পৈতৃক সম্পত্তি ভোগ দখলের জন্য নিজের গর্ভধারণী মাকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেন পাষণ্ড তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এই হতভাগী মা আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করলে আদালত অভিযুক্ত তিন ছেলে ও পুত্রবধূদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদুল আলম অভিযুক্ত তিন ছেলে ও তিন পুত্রবধূকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় আদালত পাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

মা হত্যা চেষ্টার অভিযোগে কারাগারের বাসিন্দারা হলেন- নূর ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী শামীম আক্তার (৩৩), নূর আলম (৩৮) ও স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩০) এবং নূর হোসেন (২৫) ও স্ত্রী বিউটি আক্তার (২০)।

জানা গেছে, নগরীর বন্দর থানার মধ্যম হালিশহরে আড়াই গণ্ডা জমি আছে মৃত নূরউদ্দিন ড্রাইভারের স্ত্রী ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রওশন আরা বেগমের। স্বামীর মৃত্যুর পর এ সম্পত্তি তিনি অনেক কষ্টে আগলে রেখেছিলেন। বৃদ্ধা মা যে কোনো মুহূর্তে মারা যাবেন, এ চিন্তায় আগেভাগেই সম্পত্তি নিজেদের নামে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতে তৎপর রওশন আরার তিন ছেলে।

কিন্তু রওশন আরা কোনোভাবেই ছেলেদের ভাগ-বাটোয়ারার এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মিলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় বৃদ্ধা মাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। পাষণ্ড সন্তানদের বিরুদ্ধে পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বৃদ্ধা মা আইনের আশ্রয় নেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট এসএইচএম হাবিবুর রহমান আজাদ পাশে দাঁড়ান বৃদ্ধা রওশন আরার। তার সহযোগিতায় রওশন আরা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদুল আলমের আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৫০৬ ধারায় তিন ছেলে ও তিন পুত্রবধূর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্ত ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

রোববার অভিযুক্ত ছয়জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানায়। এসময় বৃদ্ধা মা আদালতে হাজির হয়ে তার উপর নির্যাতনের কথা বিচারকের সামনে বর্ণনা করেন। বৃদ্ধা মায়ের কান্নায় আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। আদালত অভিযুক্ত ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।