মাকে প্রেমেরে ফাঁদে ফেলে সন্তান অপহরণ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

আহসান হাবিবের বয়স মাত্র তিন বছর। এতটুকুন বয়সে লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে মাকে হারাতে বসেছিল সে। অনেক দৌড়ঝাঁপ করে তাকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাটি নগরীর চান্দগাঁও থানার।  আহসানের মা হালিমা আকতার রেখা। তিনি যখন দুই মাসের গর্ভবতী তখনি স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি। স্বামী চলে যান বরিশালে। রেখা থেকে যান চট্টগ্রামে। কখনো ভিক্ষা আবার কখনো গৃহকর্মীর কাজ করে মা-ছেলের কেটেছে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়। মাস দুয়েক আগে পরিচয় হয় নোয়াখালীর সুধারাম থানার দেবিপুর-নেওয়াজপুরের আকাশ রহমান খোকার সঙ্গে।

আকাশ প্রেমের অভিনয় করে। একপর্যায়ে বিয়ের পাকা কথা দিয়ে চান্দগাঁও ফরিদের পাড়ার খলিল মাস্টারের বাড়িতে ঘরভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো সংসার শুরু করেন। এদিকে রেখা চাপ দিতে থাকেন বিয়ের। একপর্যায়ে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর নিরুদ্দেশ হয়ে যান আকাশ। একই সময় থেকে রেখার ছেলে আহসান হাবিবও নিখোঁজ। অনেক খোঁজ করেও বিফল হয়ে রেখা দ্বারস্থ হন পুলিশের। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি সাধারণ ডায়েরি করেন চান্দগাঁও থানায়। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল কাদের। তিনিই শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান ।

এসআই আবদুল কাদের বলেন, আমরা প্রথমে আকাশের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করি। এরপর আকাশের গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করি। আকাশ স্বীকারোক্তি দেন যে, আহসান হাবিব নামের শিশুটি এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে।

এরপর আমরা শিশুটির প্রথম ক্রেতা হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ বটতলী এলাকার সিরাজ ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার কথা মতো ফটিকছড়ির দোলন শীল-রেখা শীল দম্পতির কাছে যাই। তারা জানায় শিশুটি বর্তমানে রাউজানের সুলতানপুর মাহেন্দ্র কবিরাজ বাড়ির লিটন শীল-নীল শীল দম্পতির ঘরে পালিত হচ্ছে। কারণ তাদের একটি কন্যা সন্তান থাকলেও বংশের প্রদীপ হিসেবে ছেলেটিকে লালন-পালন করছেন। পরে সেখানে গিয়ে শিশুটি উদ্ধার করে শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেটের জিম্মায় দিয়ে দিই।

শিশু অপহরণের ঘটনায় রেখা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান এসআই আবদুল কাদের।