‘মাই সয়েল, মাই সোল’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদার বলেছেন, সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা ঘটনাকে একটি ছবি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে। ফুটিয়ে তুলতে পারে ঘটনার পেছনের ঘটনা। যা প্রকৃত সত্যকে মূর্ত করে তোলে। একটি ছবি গড়ে তুলতে পারে ইতিহাস।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদিন আর্ট গ্যালারিতে চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তিনদিন ব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

‘মাই সয়েল, মাই সোল’ শীর্ষক প্রদর্শনীর ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সোমনাথ হালদার। চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিপিজেএ) আয়োজিত আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে চট্টগ্রামের ২২ জন আলোকচিত্রী সাংবাদিকের ৪৪টি ছবি স্থান পেয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোমনাথ বলেন, ছবি ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কিংবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রায়ের বাজার বধ্যভূমির ছবি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

তিনি বলেন,চিত্র সাংবাদিকেরা নতুন প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে ছবির মাধ্যমে। তাঁদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি এজাজ ইউসুফী,ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ সিরাজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিইউজের সাবেক সভাপতি শহীদ উল আলম, সিপিজেএ এর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, প্রদর্শনী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক রূপন চক্রবর্ত্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ফটো সাংবাদিকেরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে,রাজনৈতিক সমাবেশে তাঁরা ছবি তুলতে গিয়ে নিগৃহীত হয়ে থাকেন। তবু তাঁরা সময়কে তাঁদের ফ্রেমে বন্দী করে রাখেন। যুগে যুগে তাঁদের ছবি সময় ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলেন।

চিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে বের হওয়া স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। এছাড়া চিত্র সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল আবেদিন আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর ছবিতে দেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, জীবনযাপন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র ফুটে উঠেছে।

এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামকে তুলে ধরা হবে। পরবর্তীতে এই প্রদর্শনীটি ভারতের কলকাতা,নেপালের কাঠমান্ডু এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।