মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের প্রধান দিবস ১০ মাঘ

প্রকাশ:| বুধবার, ২২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফমাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের আধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) এর ১০৮তম পবিত্র ওরস শরিফের প্রধান দিবস কাল। তবে আজ বুধবার থেকে তিন দিনব্যাপী ওরস শুরু হচ্ছে। ভক্ত অনুরক্তরা দেশের বিভিন্ন স’ান ও বিদেশে থেকে মাইজভান্ডারে আসতে শুরু করেছে। এ উপলক্ষে দরবারের সাজ্জাদানশীন শাহ্ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.) ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
মাইজভান্ডার আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক বলেন, ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। ইসলামের অন্তর্নিহিত সত্য সুফিবাদ। এই সুফিবাদের ধারণা নবী করিম (দ.) ও সাহাবাদের যুগে ভিন্ন নামে সুপ্ত ছিল। পরবর্তীতে ইসলামী সমাজ ব্যবস’ার ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস’ার প্রেক্ষাপটে সুফিবাদ নামে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। সুফিবাদ চর্চার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বহু ত্বরিকা বিকাশ লাভ করে। কাদেরীয়া, চিশতিয়া, সোহরাওয়ার্দীয়া, নকশ্বন্দীয়, মুজাদ্দেদীয়া ইত্যাদি। হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ পন’া মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার প্রবর্তন করেন। এই ত্বরিকা আচার ধর্ম পালনের সাথে সাথে নৈতিক পরিশুদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
গাউছুল আজম হযরত শাহ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) জীবন দর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, তিনি মাদারজাত গাউসুল আজম ও আওলাদে রাসুল ছিলেন। তার পুর্বপুরুষ সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ি ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স’াপন করেন। তারই বংশধর মওলানা সৈয়দ মতিউল্লাহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরি ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১ মাঘ বুধবার জোহরের সময় শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম সৈয়দা খায়েরউন্নেছা বিবি।
চার বছর বয়সে গ্রাম্য মক্তবে তার শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয়। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে কলকাতা গমন করেন। ১২৬৮ হিজরিতে তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। এ সময় তিনি হাদিস, তাফসির, ফেকাহ, মানতিক, বালাগাত, উছুল, আক্বায়েদ, ফালছাফা, ফরায়েজ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে তিনি যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেছের পদে যোগদান করেন।
তার পীরে তরিকত ছিলেন পীরানে পীর দস্তগীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.)। অপরদিকে পীরে তরিক্বতের বড়ভাই হযরত শাহ সৈয়দ দেলাওর আলী পাকবাজ (রহ.) এর কাছ থেকে কুতুবিয়তের ফয়েজ অর্জন করেন। তিনি বিল আছালত বা স্বভাবসিদ্ধ ওলী ছিলেন। হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) তার পীরে ত্বরিকতের নির্দেশে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভাণ্ডারে ফিরে আসেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী-প্রেমপিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশী ফরিয়াদিদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ বিশ্ব-মানবতার কল্যাণধারক এক উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় ‘মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ’ হিসেবে।
আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া) এর সচিব সৈয়দ আবু তালেব জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২টায় গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) এর রওজায় গোসল শরিফ ও গিলাপ চড়ানো হবে। প্রধান দিবস ১০ মাঘ ২৩ জানুয়ারি দিনব্যাপী আশেক, জায়েরিনগণের মাজার জেয়ারত, দিবাগত রাত ১২-০১ মিনিটে দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে বিশেষ মিলাদ, জিকির মাহফিল ও আখেরি মুনাজাত হবে। মুনাজাত পরিচালনা করবেন সাজ্জাদানশীন শাহ্ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)।
এদিকে মহান ১০ মাঘ উপলক্ষে গরিব দুস’দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, মাইজভাণ্ডারী শাহ্ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপের ব্যবস’াপনায় বিনামূল্যে খতনা ক্যাম্প, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবিকাশ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা, মহানগর, উপজেলায় তোরণ নির্মাণ, বিভিন্ন চত্বরে ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস’া করা হয়েছে। মাইজভান্ডার দরবার শরিফ এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


আরোও সংবাদ