মহেষখালের বাঁধ অপসারণ ও প্রবেশদ্বারে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি

প্রকাশ:| বুধবার, ১৩ জুলাই , ২০১৬ সময় ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ

মহেষ বাঁধমহেষখালের উপর নির্মাণাধীন বাঁধ অপসারণ ও খালের প্রবেশদ্বারে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বন্দর চেয়ারম্যানের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর জুলফিকার আজিজ।

বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনেন এবং বিদেশে অবস্থানরত বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবালের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। পরে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে জানান, মহেশখালের প্রবেশদ্বারে স্থায়ী স্লুইস গেইট নির্মাণ ও মাটির বাঁধটি অপসারণসহ সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাঁধের কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং মহেশখালের প্রবেশদ্বারে একটি স্থায়ী স্লুইস গেইট নির্মাণের নকশা প্রণয়ন এবং টেকনিক্যাল বিষয়ে চুয়েট বিশেষজ্ঞের সাথে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত নকশা পাওয়ার পরই আমরা মহেশখালের মুখে স্থায়ী স্লুইস গেইট নির্মাণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহেশখাল চট্টগ্রাম নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী খাল। চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন কর্ণফুলী নদী হতে এ খালের উৎপত্তি হয়ে বিভিন্ন শাখা প্রশাখা বিস্তৃত হয়ে পূণরায় কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে। এক সময় মহেশখালে প্রতিনিয়ত নৌকার যাতায়াত ছিল। ব্যবসায়ীরা সওদাগরী জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্য আনা-নেওয়া করতো। কালের বিবর্তনে বিভিন্নভাবে দখল, দূষণে ও ভরাটে বর্তমানে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তারপরও জোয়ার ভাটার প্রবাহ ঠিক থাকায় মহেশখালটি অত্র এলাকার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চলছে। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকাবাসীকে রক্ষার নামে মহেশখালের উপর বন্দর কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করেছে।

বাঁধের ফলে জোয়ারের পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৭ নম্বর হালিশহর মুনির নগর ওয়ার্ড এবং ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন। অপরিকল্পিত এই বাঁধ নির্মাণের ফলে জোয়ারের সময় এই দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বৃষ্টির সময় আগ্রাবাদ সিডিএ এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাবাসীও পানিতে নিমগ্ন থাকছে।

সম্প্রতি আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নীচ তলায় পানি ঢুকে রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাসপাতালের চিন তলায় স্থাপিত অত্যাধুনিক পানি শোধনাগার প্লান্ট এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায় এবং এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন আবহাওয়া সুন্দর ও শুস্ক থাকার পরও বৃহত্তর হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার লাখো লাখো মুসলমান ঈদগাহে নামাজ পড়তে পারেনি মহেশখালে বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায়।

‘বাঁধের কারণে জোয়ার ভাটার স্বাভাবিক গতি প্রবাহ না থাকায় মহেশখালের উত্তর অংশের সিংহভাগ ভরাট হয়ে গেছে। বদ্ধ পানির দুর্গন্ধ, কচুরিপানা এবং মশার প্রজনন বৃদ্ধির কারণে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে থাকে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বন্দরের সদস্য (এডমিন এন্ড প্ল্যানিং) মো. জাফর আলম, সচিব মো. ওমর ফারুক, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইলিয়াছ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হাসান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. হাসান, নগর যুবলীগ নেতা আব্দুল আজিম, শামসুল আলম, শের আলী সওদাগর, সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক হোসেন কোম্পানী, সদস্য সচিব মো. হাবিব শরীফ, মো. মোরশেদ আলম, অনুপ কুমার দাশ, অশোক চৌধুরী, মো. কামরুল হোসেন, মো. কামাল উদ্দিন, বাবুল হক বাবর, এ এস এম জাহিদ হোসেন, মো. ওকার উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, মো. শাহজাহান, কাজল চন্দ্র দে, নজরুল ইসলাম টিটু, স্বরূপ দত্ত রাজু, মো. দেলোয়ার, বিপ্লব দে, সুমন দে বাবু, ইমতিয়াজ হোসেন সুমন, মো. কাইয়ুম, মো. নোমান, চন্দন বণিক বাপ্পী, গিয়াস উদ্দিন, প্রদীপ কুমার দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।