মহেশখালের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান রাস্তা নির্মাণ হবে

প্রকাশ:| রবিবার, ১১ জুন , ২০১৭ সময় ০৯:২৮ অপরাহ্ণ

মহেশখাল, এ্যাসফল্ট প্লান্ট এবং ১১নং ওয়ার্ডের ৩টি সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারক করলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন
১১ জুন রবিবার বেলা ১১ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত মহেশখালের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা পদতলে হেঁটে হেঁটে সরেজমিনে পরিদর্শন ও মাটি এবং আবর্জনা উত্তোলন কাজ তদারক করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পার্শ¦স্থ মহেশখালের ব্রীজের নিচের বাঁধ থেকে শুরু করে ৩৮নং, ৩৭ নং, ২৬নং, ৩৬নং, ২৭নং ২৪নং, ১১নং ওয়ার্ড সমূহের উপর দিয়ে প্রবাহিত মহেশখালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। তিনি ৫টি জায়গায় এস্কেভেটরের সাহায্যে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন। এ সময় মেয়র বলেন, মহেশখালের দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান সহ টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হবে। খালের ভিতরের সকল মাটি ও আবর্জনা উত্তোলন করে পানি প্রবাহের পথ সুগম করা হবে। মহেশখালের বাঁধের কারণে খালটির করুন দশা ও পরিবেশ দুষনের মত পরিস্থিতি দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। মেয়র বলেন, মহেশখালের উপরে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ অবিলম্বে অপসারন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগামীতে মহেশখালের মুখে পাম্প হাউস সহ স্লুইচ গেইট নির্মাণ করে মহেশখালের আশ পাশ এলাকাকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রবল বর্ষন ও অতি জোয়ারের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ নগরবাসীর নিকট দুঃখ প্রকাশ করেন মেয়র। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, খালে ও নালায় অনবরত আবর্জনা নিক্ষেপ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং দখলের কারণে খাল ও নালা পানি চলাচলের ক্ষেত্রে অনোপযোগি হয়ে পড়ছে। খালের দুই পাড়ে এবং খালের উপরে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারন করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি ১১নং ওয়ার্ডে প্রায় ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ব্লকের ২নং রোড, ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ছদু চৌধুরী রোড এবং ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রানহরি দাস রোড এর নির্মাণ কাজ তদারক করেন।
এ সকল রোডের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করার জন্য মেয়র সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেন। এ ছাড়াও প্রানহরি দাস রোডে নির্মাণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য জনৈক শাহবুদ্দিনের রাস্তার উপর নির্মিত স্থাপনা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অপসারন করে রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাগরিকায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিণাধীন নতুন এ্যাসফল্ট প্লান্ট দেখতে যান। সেখানে তিনি নির্মাণ কাজের বিভিন্নদিক খতিয়ে দেখেন। এ্যাসফল্ট প্লান্ট সংযোজন কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের এ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। মেয়র আশা করছেন জুন মাসের মধ্যে নতুন এ্যাসফল্ট প্লান্টটি চালু করে টেকসই ও গুনগত মান সম্পন্ন মালামালের মাধ্যমে রাস্তার উন্নয়ন ও প্যাচওয়ার্ক কাজ শুরু করতে পারবেন। এ সময় মেয়রের সাথে ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম এরশাদুল্লাহ, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, ৩৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল আলম, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা বেলাল আহমদ সহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।