মহেশখালী নজির মাঝি হত্যাকান্ড : উনুদঘাটিত রহস্যে পুলিশ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

এ.এম হোবাইব সজীব,মাতারবাড়ী থেকে ফিরে:
মহেশখালী উপজেলার উপদ্বীপ মাতারবাড়ী চলতি মাসের ১৩ ডিসেম্বর নজির মাঝির লাশ উদ্ধারের পর গত ৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি। তাই পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তাদের বাড়িতে হানা না দেওয়ায় কোন ক্লু-উদঘাটন করতে না পারায় ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে নজির মাঝি হত্যার মূল হোতারা। তাই পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা জানান শান্ত ইউনিয়নকে অশান্তি ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদেশীদের মনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য চক্রান্তকারীদের যোগসাজসে এলাকায় সরকার বিরোদী একটি চক্র এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে কিছু দাগী সন্ত্রাসীদের ইন্ধানে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলেও এলাকার লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। তবে সরকারী দলের কেউ জড়িত নাই প্রমাণে অপরাধীদের আটক করতে সরকারী দলের লোকজনকে অতন্দ্র প্রহরী ভূমিকা রাখতে হবে বলে সচেতন লোকজন মনে করেন।
ফলে আলোচিত এ হত্যাকান্ড নিয়ে নিহতের পরিবার, চেয়ারম্যান মাষ্টার মোঃ উল্লাহ ও স্থানিয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি নজির মাঝির পরিবার চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে সাক্ষাত করে হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অবহিত করেন। ওই সময় চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতারা যেই ভাবে হোক খুনিদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন। অপরদিকে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি অপরাধীদের আটক করতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এর চেয়ে মারাত্মক অবনতি ঘটবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
জানা গেছে, চলতি মাসের ১৩ ডিসেম্বর রাতের যে কোন সময় নজির আহমদ মাঝিকে অজ্ঞাত দৃর্বৃত্তরা হত্যা করে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মজিদিয়া মাদ্রাসার সংল্গন কবর স্থানে এর পশ্চিম পাশ্বে বাউন্ডারী ওয়ালের ভেতরে হত্যা করে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন ১৪ অক্টোবর ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ রফিক বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ বিভিন্ন ইসুকে সামনে রেখে এগুচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে সাত টার সময় মাতারবাড়ী মজিদিয়া মাদ্রসার সামনে এক দোকানদারের কাছ থেকে চালানি টাকা নিয়ে বাড়ী ফেরার সময় টাকা ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত নাজির আহমদ মাঝি পেশায় একজন বোট চালক, এলাকায় নাজির মাঝি নামে বেশ পরিচিত। এলাকার লোকজন তাকে একজন সাদা মনের মানুষ নামে চেনেন। জানা যায়, ইদানিং মাতার বাড়ীতে হত্যা, চুরি-ডাকাতি সহ মদ গাজা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। তবে হত্যায় জড়িত যে কোন একজনকে আটক করতে পারলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। সূত্রে প্রকাশ গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন রাতে ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছে। ইউনিয়নের পশ্চিম সাইটপাড়া এলাকায় গত এক সপ্তাহে চারটি বাড়ীতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। তবে এখন ডাকাতি বন্ধ হলেও একটি কু-চক্র মহল সাইট পাড়া এলাকায় ডাকাতি হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় জনমনে আতংক সৃষ্টি করাচ্ছে।
৪ নং ওয়ার্ড়ের মেম্বার জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জনসচেতনতা মুলক কাজ করলে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। একটি কুচক্রি মহল ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এ কাজে জড়িত বলে ধারনা করা হচ্ছে এবং হত্যায় কারা জড়িত তাদেরকে খুব শিঘ্রই ধরে পুলিশের হাতে দেওয়া হবে।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জি এম ছমি উদ্দিন জানান, বেশ কিছু দিন ধরে এলাকার আইন শৃংখলা ভেঙ্গে পড়েছে । স্থানিয় প্রশাসন ও পুলিশের ভুমিকা আরো জোরদার হলে এবং এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনাগুলোর ক্লো বের হবে বলে আশা করি। এবং সরকার বিরোধী একটি চক্র র্প্বূ পরিক্লপিতভাবে ঘটনা গুলো ঘটাচ্ছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রশাসনকে তালিকা দেওয়া হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ীর আইসি এস আই শাওন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যে ঘটনা গুলো ঘটেছে এ বিষয়ে আমরা কঠোর নজরদারী করছি। তবে নজির মাঝি হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকারীদের ছাড় দেওয়া হবেনা ।
চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ আমাদের কক্সবাজারকে জানান, মাতারবাড়ী ২ টি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো বাংলাদেশ আলোকিত হবে। এ বিশাল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং স্থানিয় পরিষদকে ব্যর্থ প্রমানে সু-গভীর পরিক্লপনা শুরু হয়েছে। আর কয়লা প্রকল্পে দেশ বিদেশের গুরুত্ব ব্যক্তি প্রকল্পের উন্নয়নের কাজ করতেছে। তাদের মনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য চক্রান্তকারীদের যোগসাজসে এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটাচ্ছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ জানাই। এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। মহেশখালী থানার ওসি বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, হত্যা মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত পূর্বক প্রকৃত অপরাধী কারা তা সনাক্ত করতে পারবো বলে আশা করছি।