মনজুর আলমের সাথে মহিউদ্দিনের সাক্ষাৎ

প্রকাশ:| সোমবার, ৮ জুন , ২০১৫ সময় ০৮:০০ অপরাহ্ণ

mohiuddin-monjur1চট্টগ্রামের সাবেক এম মনজুর আলমের কাট্টলীর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন আরেক সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। একজন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অন্যজন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগী নেতা। তবে এদের দু’জনের আরেক পরিচয় হচ্ছে মনজুরের ‘রাজনৈতিক গুরু’ মহিউদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার দুপুরে মনজুর কাট্টলীর বাসায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ‘গুরু-শিষ্য’ একান্তে দেড় ঘন্টা কথা বললেও তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কি তা জানা যায়নি। যদিও মনজুর আলমের ছেলে সরওয়ার আলমের দাবি, দু’জনের অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে একমত হতেই একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন সাবেক এ দুই মেয়র।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে নির্বাচন বর্জন করে একদিকে মনজুর আলম যেমন নিজ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতাল আর বিছানা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। অনেকটা হঠাৎ করেই নিজ গাড়ীতে চেপে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিষ্য মনজুর আলমের বাসায় যান গুরু মহিউদ্দিন চৌধুরী। এসময় মহিউদ্দিনকে স্বাগত জানান মনজুর। পরে চট্টগ্রামের সাবেক এ দুই নগরপিতা একান্তে প্রায় দেড়ঘন্টা বৈঠক করেন।

২০১০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির সমর্থন নিয়ে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে মেয়র পদে আসীন হন মনজুর আলম। এরপর কিছুদিন মহিউদ্দিনের সাথে মনজুরের দূরত্ব তৈরি হলেও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন চালানোর ক্ষেত্রে গুরু মহিউদ্দিনকেই কাছে টেনে নেন মনজুর আলম। দুই জন দুই দলের রাজনীতি করলেও মহিউদ্দিনের পরামর্শেই নগর ভবনের কার্যক্রম পরিচালানা হতো বলে গুঞ্জন ছিল। এনিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা থাকলেও নিজ সিদ্ধান্তে অটুট ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগী অভিমানী সাবেক মেয়র মনজুর।

গত ২৮ এপ্রিলের সিটি করপোরেশনের মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন যখন মেয়র পদে সমর্থন পান। তখনই তিন মাস আগে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে নাছিরের সাথে বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন মনজুর আলম। তবে ‘বির্তকিত’ সেই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিনঘন্টার মধ্যেই ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন মনজুর আলম। যার ফলশ্রতিতে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৪ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করে মেয়র নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির উদ্দিন।

একই সময়ে নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদের সমর্থন নিয়ে যে বিএনপিতে আসেন মনজুর আলম। সেই বিএনপির রাজনীতিতে থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ থেকেও। যদিও আনুষ্ঠানিকভাকে বিএনপি কিংবা মনজুরের পক্ষ থেকে পদত্যাগের ব্যাপারে এখনো কোন দালিলিক প্রমান দেয়া হয়নি। তবে নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির রাজনীতি ও নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগই রাখছেন না মনজুর আলম।

এরই মধ্যে মেয়র হিসেবে নাছির নির্বাচিত হওয়ায় নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটা দলের সাধারণ সম্পাদক নাছির কেন্দ্রিকই হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সব কর্মসূচিতে মহিউদ্দিন উপস্থিত হতে না পারলেও প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেয়র নাছির।

এমনকি নিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিনের উপস্থিতিতেই আ জ ম নাছির ঘোষণা দেন, দলের সুবিধাভোগী নেতাদের চিহ্নিত করে ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হবে। ঢেলে সাজানো হবে নগর আওয়ামী লীগের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিকে। এনিয়ে নগর আওয়ামী লীগে নতুন করে মেরুকরণেরও আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

মহিউদ্দিন-মনজুরের এই একান্ত বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেটি নিশ্চিত করে জানা না গেলেও নগর রাজনীতি যে বাদ যায়নি আলোচনা থেকে সেটিও নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। সব মিলিয়ে এই মূর্হুতে সাবেক দুই মেয়রের এই বৈঠকটি নগর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে- কেনই বা মনজুর বাসায় গেলেন মহিউদ্দিন?

তবে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের ছেলে সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী মনুজর আলমকে বলেছেন দুই জনের অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মিলে মিশে কাজ করলে চট্টগ্যাম মহানগরীর আরো উন্নয়ন হবে। এসময় সাবেক মেয়র মনজুর গত পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। চট্টগ্রামের স্বার্থে মহিউদ্দিন- মনজুর একসাথে সকল সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজ করবেন বলেও একমত হয়েছেন।


আরোও সংবাদ