মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যে বিস্মিত ও ব্যথিত বলে জানিয়েছে বিএমএ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:০১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনোত্তর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যে বিস্মিত ও ব্যথিত বলে জানিয়েছে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চট্টগ্রাম জেলা।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে স্বাচিপের জেলা সদস্যসচিব ডা. মোহাম্মদ শরীফের পাঠানো বিবৃতিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দিকে ইংগিত করে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ডা. খাস্তগীর স্কুলে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয় যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচনে স্বাচিপের মূলধারার এবং চট্টগ্রামের সিংহভাগ চিকিৎসকদের সমর্থন নিয়ে ডা. মুজিব-ডা. ফয়সল পরিষদের নেতারা যেভাবে বিগত ১ মাস চট্টগ্রামের সর্বস্তরের চিকিৎসকদের নিকট ভোট প্রার্থনা করেছেন, একইভাবে স্বাচিপের ক্ষুদ্র অংশের সমর্থন ও একটি অপূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়ে ডা. নাসির-ডা. মিনহাজ পরিষদও সব চিকিৎসকের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন যা থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বাদ যায়নি। কিন্তু নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নানারকম প্রলাপ বকছে যা আঙুর খেতে না পেয়ে ধূর্ত শেয়ালের আঙুরের বদনাম করার পুরোনো গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়।

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে ডা. নাসির-ডা. মিনহাজ পরিষদের নামাঙ্কিত হলুদ টুপি ও ব্যাজ পরিয়ে কারা বিপুলসংখ্যক বহিরাগত জড়ো করেছে, নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে কারা বহিরাগত দিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, মিছিল করেছে, তা চট্টগ্রামের আপামর চিকিৎসক সমাজ ও জনগণ দেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই সচেতন চিকিৎসক সমাজের রায় তাদের বিরুদ্ধে গেছে নিজেদের অপকর্মের জন্য যেখানে তাদের লজ্জিত হয়ে চিকিৎসকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত, সেখানে তা না করে তারা সর্বমহলে প্রশংসিত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

তাদের সাথে সুর মিলিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের একজন জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা যা আমাদের শুধুই বিস্মিত করেনি, ব্যথিতও করেছে। তিনি আপামর চিকিৎসকদের ভোটে নির্বাচিত ডা. মুজিব-ডা. ফয়সল প্যানেলকে ‘লুটেরা প্যানেল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘হাসপাতালের ঔষধপত্র ও রোগীদের খাদ্য তারা লুট করছে।’ এই বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই। আমরা আহ্বান জানাই, সত্যিকারের লুটেরাদের চিনুন, যারা জেনারেল হাসপাতালে লুট করেছে, যারা রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে লুট করেছে, যারা চমেক হাসপাতালে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে, তারা বর্তমানে আপনার চারপাশেই আছে এবং আপনাকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি আরও বলেছেন, ডা. মুজিব-ডা. ফয়সল পরিষদ বিএনপি জামাতের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আমরা তার অবগতির জন্য জানাই যে, কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন পেয়েছেন ২৩৩৮ ভোট, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. ইহ্তেশামুল হক চৌধুরী দুলাল পেয়েছেন ১৭৯২ ভোট, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসভাপতি পদে ডা. শেখ শফিউল আজম পেয়েছেন ২১৩৫ ভোট, চট্টগ্রাম বিএমএ সভাপতি পদে অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান পেয়েছে ২১২৯ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. মো. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী পেয়েছে ২২৬৮ ভোট। এখানে দেখা যাচ্ছে ডা. জালাল, ডা. দুলাল ও ডা. শেখ শফির প্রাপ্ত ভোট ডা. মুজিব ও ডা. ফয়সলের ভোটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ডা. নাসির-ডা. মিনহাজ প্যানেলের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে ডা. জালাল, ডা. দুলাল ও ডা. শেখ শফিও বিএনপি জামায়াতের সাথে আঁতাত করেছেন, তা না হলে এত ভোট কি করে পেলেন?

বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে মুরুব্বি হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার যে আহ্বান জানিয়েছেন তার পরদিনই এ ধরনের বাস্তবতা বিবর্জিত ও মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়া তার মতো বর্ষীয়ান নেতার পক্ষে বেমানান ও নিন্দনীয়।

মিথ্যা অপপ্রচার না চালিয়ে চিকিৎসকদের পবিত্র রায় মেনে নিয়ে নিজেদের সংশোধন করে পুনরায় চিকিৎসকদের সামনে নিজেদের উপস্থাপন করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।