অনুমতি না পেলেও দুদিন ব্যাপী মহাসমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ

হেফাজত hafajotদুইদিন ব্যাপী মহাসমাবেশ করবে বলে হুঁসিয়ারি উচ্চারণ করেছেন হেফাজতে ইসলাম
হাসমাবেশ করতে না দিলে আগামী শুক্রবার বিক্ষোভ ও রোববার হরতাল পালনের হুমকি
এএসপি ও ওসির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন আল্লামা শফি
হেফাজতের আমীরের জরুরী বৈঠক
মহা-সম্মেলনের অনুমতি না দিলে আসছে রোববার হরতাল

বিপ্লব দে,হাটহাজারী
: চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে ইসলামী মহা-সম্মেলন নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের পর সোমাবার বিকেলে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশাসন চট্টগ্রামের ওই মহা-সম্মেলনের অনুমতি না দিলে আগামী বোরবার (১৫ ডিসেম্বর) বৃহত্তর চট্টগ্রামের হরতাল ঘোষণা করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। হরতালের বিষয়টি হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদি নিশ্চিত করেন।
এছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রামে আগামী শুক্রবার বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয় বলে জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, আল্লামা মুহাম্মদ ইদরিস, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা সলিম উল্লাহ প্রমুখ।

এর পূর্বে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব বাবুনগরী মঙ্গলবার(১০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সরকারকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতির জন্য সময়সীমা বেঁেধ দেন। এর মধ্যে যদি অনুমতি না দিলে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করা হয় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।

জমিয়তুল ফালাহে ইসলামী সম্মেলন করতে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি
আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যতে দেশে আযান নিষিদ্ধ করবে

বিপ্লব দে,হাটহাজারী ঃ আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যতে দেশের মসজিদে আযান দেওয়া নিষিদ্ধ করবে। মক্তব,মাদরাসা বন্ধ করে দেবে। দাড়ি,টুপি ও হিজাব পড়ে কাউকে রাস্তায় বের হতে দেবে না। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কর্তৃক হাটহাজারীতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার (৯ডিসেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মহাসচিব আল্লামা বাবু নগরী এ কথা বলেন।
তিনে আরো বলেন, ২০১০ সাল থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে ইসলাম আল্লাহ্ ,রাসুল, ঈমান, আকিদার নানা বিষয় তৌহীদি জনতাকে জানানোর জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারা বাহিকতায় এবছর ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন ব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলন করার জন্য গত ৪ নভেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয় । সম্মেলনের তারিখ ঘনিয়ে আসলে ও কতৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। সরকার ৯০ ভাগ মুসলিম অধূষ্যিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও নাস্তিক্যবাদি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাবুনগরী মঙ্গলবার(১০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সরকারকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতির জন্য সময়সীমা বেঁেধ দেন। এর মধ্যে যদি অনুমতি না দিলে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করা হয় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিবের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল ইসলাম হক ইসলামাবাদী। এরপর মহাসচিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাবুনগরী বলেন,এরশাদ আল্লামা শফির কাছে দোয়া নিতে আসছিলেন। আল্লামা শফী ইসলামের কাজ করার জন্য দোয়া করেছিলেন। কিন্তু হাটহাজারী থেকে ঢাকায় গিয়ে সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যাওয়র জন্য মন্ত্রীসভায় তার দলের অংশগ্রহন করার জন্য আল্লামা শফি দোয়া করেন নি। ফলে সেই দোয়া বদদোয়ায় পরিনত হয়েছে।
নির্বাচনে না যাওয়া প্রসঙ্গে বাবুনগরীর দেওয়া বিবৃতি সর্ম্পকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাবুনগরী বলেন,বর্তমান সরকার এক তরফা নির্বাচন করতে চেষ্টা করছে। এতে দেশে শান্তি আসবে না। বরং নাশকতা ও অশান্তি বৃদ্ধি পাবে। তাই তাকে(এরশাদকে) সিদ্ধান্তে অটল থাকতে বলেছি।
হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন কিন্তু সংগঠনের আমীর আল্লামা শফী নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথা কেন বলেছেন,সাংবাদিকদেও এ প্রশ্নে বাবুনগরী বলেন,তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া এদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। আর এক তরফা নির্বাচন করলে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করবে। এ সরকার নাস্তিক প্রিয় সরকার। তার প্রমান এ সরকার তার পাঁচ বছরে দিয়েছে।
এই সরকার শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সরকার নাস্তিক্যবাদি ও ইসলাম বিদ্বেষীদের প্ররোচণায় সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের নীতিকে বাদ দিয়ে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা তথা নাস্তিকতা চালু করেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সকল পর্যায়ে ইসলামের উপর নগ্ন আঘাত হানা হচ্ছে। দাড়ি, টুপী, নামাযী ও হিজাবধারী মা-বোনদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানী করেছে। সরকারের ইসলাম বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণে দেশের সকল স্তরে ইসলাম বিরোধী নীতি ও প্রথা চালু করেছে।
মহাসচিব যেকোনমূল্যে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে মহাসমাবেশ করার ঘোষনা পুনব্যক্ত করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল আলম, আল্লামা মুহাম্মদ ইদরিস, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা সলিম উল্লাহ, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মুহাম্মদ শফি, মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেফাজত আমীরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান, মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, আলহাজ্ব আহসান উল্লাহ মাস্টার, মাওলানা সাহাবুদ্দীন, মাওলানা মাহমুদ হাসান, মাওলানা আলমগীর, মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা শোয়াইব মোরশেদ প্রমুখ।

হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি ও ওসি আল্লামা শফির সঙ্গে দেখা করে দেশের এ পরিস্থিতিতে মহাসমাবেশ না করার অনুরোধ করলে আল্লামা শফি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আগে আপনার সরকারকে বলেন দেশের সকল মুসলিমকে মেরে ফেলতে তাহলে আর আমাদের সমাবেশ করতে হবে না।