মহাসমাবেশে দুই লক্ষ লোক জমায়েত করার প্রস্তুতি নিয়েছে হেফাজত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫১ অপরাহ্ণ

হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর শনিবার(২ নভেম্বর) মহাসমাবেশে দুই লক্ষ লোক জমায়েত করার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। হেফাজত নেতৃবৃন্দ শুক্রবার (১ নভেম্বর) হাটহাজারী প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তুতির কথা বলেলন।
সরকার কর্তৃক উত্তাপিত কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩ বাতিল,দেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও ঈমান অক্বিদা রক্ষার ১৩ দফা বাস্তবায়ন ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিশর্ত মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী পৌর শাখার সভাপতি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মীর ইদ্রিছ জানান সমাবেশে দুই লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। তাছাড়া ইতিমধ্যে তারা প্রশাসনের সাথে যাবতীয় আনুষ্ঠনিকতা শেষ করেছে। শান্তিপূর্ন সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য হাটহাজারী বাজার,কাচাড়ী সড়ক,বাসষ্টেশন,কলেজ গেইট প্রভৃতি এলাকায় আড়াই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। প্রধান বক্তা থাকবেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ শওক বাবুনগরী। এতে সভাপতিত্ব করবেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপরী।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন মীর ইদ্রিছ,জাকারিয়া নোমান ফয়েজী,আহসানউল্লা মাষ্টার,মাওলানা হাবিবুল বিন খালেদ,মাওলানা এমরান সিকদার,হাফেজ মাহমুদুল হোসাইন ও হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম ।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম.লিয়াকত আলী জানান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশের জন্য পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তারা(হেফাজত) যদি শান্তিপূর্ন সমাবেশ করে তবে তাদেরকে আমরাও সহযোগীতা করব। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার চেষ্টা করলে সে ব্যাপারে পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহন করবে।
উল্লেখ্য গত ২৭ অক্টোবর কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩ আইন পাস করা থেকে বিরত থাকার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনদফা কর্মসূচী ঘোষনা করে। ১ নভেম্বও সারাদেশে ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ থাকার কারনে হেফাজত শুক্রবারের কর্মসূচী প্রত্যাহার করলেও অন্য কর্মসূচী গুলো ঠিক রয়েছে বলে হেফাজত নেতৃবৃন্দ জানান।

ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না-আল্লামা শফীআল্লামা শফী Allama Sah Ahmed Shafi
ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও আগ্রাসী যে কোন অপতৎপরতার মোকাবিলায় উলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র ও তৌহিদী জনতার ঐক্যবদ্ধ সুদৃঢ় অবস্থান এবং সজাগ ও সতর্ক থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর এবং দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। শুক্রবার হেফাজতের প্রেস সচিব মুনির আহমদেও দেওয়া বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অক্ষুণœ রাখতে পারলে আল্লাহ-রাসূল, ইসলাম, উলামা-মাশায়েখ ও ক্বওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোন অপতৎপরতা চালাতে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদি কোন অপশক্তিই সাহস করবে না। সুতরাং সর্বাবস্থায় আমাদের অরাজনৈতিক ভূমিকাকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আরো জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম বিদ্বেষী ও নাস্তিক্যবাদি শক্তি হেফাজতে ইসলামের অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার ঐক্যকে বিনষ্ট করার জন্য নানা আগ্রাসী তৎপরতা, চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তারা সরাসরি জনগণের সাহায্যা-সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততায় পরিচালিত সঠিক ঈমান-আক্বীদা ও ইসলামী অনুশাসনের প্রচার ও দাওয়াতী কার্যক্রমে নিয়োজিত দেশের ক্বওমী মাদ্রাসা ও আলেম সমাজকে আজ্ঞাবহে পরিণত করার জন্য ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মহান আল্লাহর রহমতে আমাদের সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে এই উদ্যোগ আপাততঃ স্থগিত করতে তারা বাধ্য হয়েছে।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্যে বর্তমান মহাজোট সরকারকে ইসলামের সপক্ষের ও হেফাজতকারী হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। এটা অনেক আশাব্যঞ্জক উক্তি। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইসলাম বিদ্বেষীদের অপতৎপরতা বর্তমান সরকারের আমলেই সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে। সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাসের ধারা বর্তমান সরকারই রদ করেছে। হিজাব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতা, ধর্মীয় বিধি-বিধানের নানা অপব্যাখ্যাসহ ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতির উপর নগ্ন আঘাত মহাজোট সরকারের আমলেই বেশী হয়েছে। আল্লাহ-রাসূলের অবমাননা ও কুৎসা রটনাকারী ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের বিচার ও শাস্তির দাবীতে উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার ধারাবাহিক আন্দোলন ও চরম আত্মত্যাগের পরও সরকার এ পর্যন্ত জোরালো কোন পদক্ষেপ দূরে থাকুক, শান্তনামূলক কোন ভূমিকাও নেয়নি। উপরন্তু নাস্তিকদেরকে জামাই আদরে রেখে উলামায়ে কেরামের নামে মিথ্যা মামলা, ধরপাকড়, রিমান্ডে নির্যাতনসহ সর্বশেষ ক্বওমী মাদ্রাসা ও উলামায়ে কেরামকে শৃঙ্খলিত করার আয়োজনও চূড়ান্ত করেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কোন কোন মন্ত্রী এমপি ও কর্তাব্যক্তিদেরকে প্রায়ই ওলামা-মাশায়েখ, ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষককে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে নানা মিথ্যা অপবাদ, অসৌজন্য ও বিদ্বেষমূলক কটূক্তি করতেও শোনা যায়। সরাসরি জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততায় পরিচালিত কুরআন-হাদীসের জ্ঞানার্জনের কেন্দ্র ক্বওমী মাদ্রসার বিরুদ্ধে নানা বিষোদ্গার করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এসব অপবাদ ও মিথ্যা প্রচার এখন জনগণ বিশ্বাস করে না। বিগত ৫ মে শাপলা চত্বরের এত বড় জুলুম-অত্যাচার ও হতাহতের শিকার হওয়ার পরও ওলামা-মাশায়েখ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রতিশোধমূলক কোনরূপ ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে কী পরিমাণ ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছে, তা বিশ্ববাসী দেখেছে। হেফাজতের চলমান অরাজনৈতিক আন্দোলনেও ক্বওমী আলেমরা কতটা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন, তাও দেশবাসী জানে। আমরা সংঘাত চাই না এবং শান্তির পক্ষে বলেই সরকারের কৌশলী পিছু হটা জেনেও আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচীও স্থগিত করেছি।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী নাস্তিক ধর্মদ্রোহী রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারি ব্লগারদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার নীতি ফিরিয়ে আনাসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থন কামনা করেন। তিনি সরকারের প্রতি আলেম উলামাদের ওপর হয়রানি বন্ধ, দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত আলেম উলামাদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানান। একই সাথে নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্ম অবমানকারিদের পক্ষ নেয়া ও সাহায্য সহযোগিতা থেকে বিরত থেকে এদেশের গণমানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্যও সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।


আরোও সংবাদ