‘মহানবীর (দ.) শুভাগমন ঘটেছে বলেই সমগ্র সৃষ্টি জগৎ অস্থিত্ব লাভ করেছে’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:১২ অপরাহ্ণ

 

ফটিকছড়ি তেলপারইস্থ বাগে হুদা কাদেরিয়া নকশবন্দিয়া সৈয়দিয়া খানকাহ শরিফ থেকে সৈয়দ বাড়ি দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা (মজিআ) এর নেতৃত্বে হাজারো নবীপ্রেমী জনতার অংশগ্রহণে উত্তর চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগে হুদা খানকাহ শরিফ ও অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ শামসুল হুদা (রহ.) এর মাজার শরিফ প্রাঙ্গণ থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়ে মুহাম্মদ তকিরহাট এলাকায় প্রদক্ষিণ করে জাহানপুর হাইস্কুল মাঠে ও আজাদী বাজারে পথসভা শেষে বাগে হুদা খানকাহ শরিফ মাঠে এসে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা কালেমা খচিত পতাকা, জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ফেস্টুন বহন করে নানা স্লোগানে স্লোাগানে পুরো এলাকাকে মুখরিত করে তুলে। জশনে জুলুস শেষে অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা বলেন, জশনে জুলুস ইসলামী সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রিয় নবীর (দ) দুনিয়ায় শুভাগমন ঘটেছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। তাই নিয়ামত প্রাপ্তিতে কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া স্বরূপ জশনে জুলুসে শামিল হওয়া নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। তিনি বলেন, আজকে সারা বিশ্বে যুদ্ধ সংঘাত লেগে আছে। শান্তিকামী মানুষ আজ বড়ই দুর্দিন পার করছে। সিরিয়া-লেবানন ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য আজ যেন জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। এই সব দেশে নিরীহ মানুষের নীরব আহাজারি চলছে। বিশ্বজুড়ে মানবতার এই নির্মম আহাজারি থামাতে মহানবীর (দ) শান্তির দর্শনকে অনুসরণ করতে হবে। আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা সে দেশের আদি বাসিন্দা। অথচ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক তারা পদদলিত ও নিষ্পেষিত। মুসলমান হওয়াই রোহিঙ্গাদের একমাত্র অপরাধ। রোহিঙ্গাদেরকে সে দেশে নিরাপদে স্ব-সম্মানে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘসহ শক্তিধর দেশগুলোকে চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
জশনে জুলুস মাহফিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল হালিম, আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ রুহুল আমিন, পীরজাদা মাওলানা সৈয়দ তৌছিফুল হুদা রাকিবসহ ওলামায়ে কেরাম রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি উপস্থিত ছিলেন।
আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা আরো বলেন-নবীপ্রেম ঈমানের অনিবার্য দাবি। নবীপ্রেমের শক্তিতে উজ্জ্বীবিত হয়ে মুসলমানদেরকে আজকের নিপীড়িত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ খুঁজতে হবে। জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উদ্যাপনের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও প্রিয় নবীর (দ) সন্তুষ্টি ও সুপারিশের ভাগিদার হওয়া সম্ভব। মিলাদ-কিয়াম শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন।