সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান নিশ্চিত করা হবে

প্রকাশ:| সোমবার, ১৬ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

 

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখা এবং লোডশেডিং ঘাটতি পূরণের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র চিঠির প্রেক্ষিতে মহানগর আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে চলমান এই সমস্যা সমাধান নিয়ে আগ্রাবাদস্থ প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সত্ত্বেও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণে নানা ধরনের ত্রুটি স্পষ্ট হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরবাসী সংক্ষুব্ধ। লক্ষনীয় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শতভাগ আন্তরিকতা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগের মুষ্টিমেয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতিবাচক কর্মকা- আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রমের মত একটি জরুরী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে ব্যক্তি বিশেষের অবহেলা ও দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারণে সিস্টেম লসের অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংকটকে ঘনীভূত করা হয়েছে। যা কখনো কাম্য নয়। আমরা মনে করি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হলে এ সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব। প্রত্যুত্তরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, জনবলের স্বল্পতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক কারণে সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি প্রায় প্রতিদিনই গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া দুর্নীতি অনিয়ম ও অবহেলার যে অভিযোগ করা হয়েছে এ সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে অবশ্যই চিহ্নিত করা হবে। রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্যকে আমরা ধরে রাখতে চাই। এছাড়া সাময়িক বিদ্যুৎ সংকটের কারণগুলো অনুসন্ধান করে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের আমরা আপপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, গ্যাস প্রবাহের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় চট্টগ্রামে শিকলবাহায় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চট্টগ্রামে গ্রাহকদের কাছে চাহিদামাপিক বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তা আবার চালু করতে বিড়ম্বনা অবিলম্বে দূরীকরণ, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া জনিত কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি লাঘব, ভুতুড়ে বিল প্রদান বন্ধ করা এবং প্রিপ্রেইড কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে বিক্রয়কেন্দ্র বাাড়ানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের হয়রানি বন্ধের মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান প্রকৌশলী জানান এ প্রিপেইড সিস্টেমটি সবেমাত্র চালু হওয়ায় কিছু গলদ থাকতেই পারে। এই সব সমস্যা সমাধান খুঁজে বের করতে আমাদের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সমস্যার তড়িৎ সমাধান উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন জনগণের কল্যাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য আপনাদের যে কোন অভিযোগ আমরা আমলে নিতে বদ্ধ পরিকর এবং আপনাদেরকে নিয়েই আমরা সমাধান খুঁজে পেতে আগ্রহী। তিনি নেতৃবৃন্দদের আশ্বস্থ করে বলেন যে, আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সমাপ্ত হলে বিদ্যুৎ এর তেমন লোডশেডিং থাকবে না। তিনি চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিরসন এবং জনগণের মাঝে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার তাগিদ জানিয়ে আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চিঠি প্রদান করায় তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের অন্যতম সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন এর পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম জাহাঙ্গীর, প্রকৌশলী মো: শামসুল আলম, প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল বড়–য়া, সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো: ইমাম হোসেন, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, উপ পরিচালক (হিসাব) মো: সালেহ আহমদ প্রমুখ।