মমতা অনড়, পশ্চিমবঙ্গের ৫ জেলার নির্বাচন বাতিলের আভাস

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০২:১৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক ||

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পাঁচটি জেলার লোকসভা নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে। জেলাগুলো হলে বীরভূম, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠা আট কর্মকর্তাকে রাজ্য সরকার বদলি না করলে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

এনডিটিভি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ না করার অভিযোগে রাজ্যের আট কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশ দেয়।

ওই আট কর্মকর্তা হলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসক সঞ্জয় বনসল, মথুরাপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অলকেশ প্রসাদ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অরিন্দম দত্ত, বীরভূমের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, বর্ধমানের পুলিশ সুপার সৈয়দ মির্জা, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ, মালদহের পুলিশ সুপার রাজেশ যাদব ও মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।

তবে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হোক। তবুও নির্বাচন কমিশনের ওই নির্দেশ তিনি মানবেন না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ওই আট কর্মকর্তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। তবে বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাদের বদলির নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সই না করলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ বলেছেন, ‘ওই কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ পালনে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ দেখতে অপেক্ষা করব আমরা। কর্মকর্তাদের বদলি করা না হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।’

মমতার এমন ঘোষণার কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাজ্যের কংগ্রেস, বিজেপি ও বামদল। মমতার এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানবিরোধী বলেও দাবি করেছে দলগুলো।

কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘পাগলের মতো কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের উচিত জামিন অযোগ্য ধারায় মমতার বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো।’
মমতার উদ্দেশে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, ‘উনি আইনের তোয়াক্কা করেন না। গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চাইছেন।’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের খুব দরকার ছিল।’
পঞ্চম পর্বে ১৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

গত শনি ও রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভি এস সম্পত পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোববার বৈঠকও করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গতকাল নয়াদিল্লিতে গিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের ওই আট শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেন।

ভারতের সাধারণ নির্বাচনের নয় পর্বের ভোটের প্রথম পর্ব গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনে মাত্র ছয়টি আসনে ভোট হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ভোট উত্সবের শেষ পর্ব আগামী ১২ মে। ভোট গণনা ১৬ মে।