মন্দিরে হামলায় কেন ব্যবস্থা নয় জানতে চেয়ে রুল জারি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:২১ অপরাহ্ণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার বনগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে, মন্দিরে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত। আগামী ৬ মে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর লুটপাট শিরোনামে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে আদালত এ আদেশ দেন।

বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বলা হয়, রোববার ১৯ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের বনগ্রাম এলাকায় বনগ্রাম শ্রীশ্রী সুধন্য কৃপাময়ী কালীমন্দির এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে এ হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়- এলাকাবাসী, হিন্দু পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বনগ্রাম এলাকায় সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২টি মাইক্রোবাসযোগে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী মন্দিরের কাছে গিয়ে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পুলিশের পোশাকের মতো পোশাক পরা ছিল। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে সুরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের বাড়ির টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। ভাঙচুর শেষে ওই বাড়ি থেকে টাকা ও মালামাল লুটপাট করে। একই সময় পাশের মন্দির ও লাল মোহন বর্মণ, সুনীল চন্দ্র বর্মণ, সতীন্দ্র বর্মণ, নিরঞ্জন চন্দ্র বর্মণসহ ২০-২৫টি বাড়িতে ও পাঁচটি দোকানে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট করে।

সন্ত্রাসীরা কালীমন্দিরের কালী প্রতিমা, মহাদেব ও রাগিণী যোগিনীসহ চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন নারী, শিশুসহ কমপক্ষে সাতজন।

ভাঙচুরের খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বনগ্রামের বাসিন্দা সুনীল চন্দ্র বর্মণ জানান, সন্ত্রাসী রফিক ও তার দলবলের অত্যাচার এবং নানা অপরাধের প্রতিবাদ করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।


আরোও সংবাদ