মনের আনন্দে কাপড় ফেরী করেন বৃদ্ধ পরিমল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ জুন , ২০১৭ সময় ০৯:৪৪ অপরাহ্ণ

 

পূজন সেন, বোয়ালখালী :
কাঁধে কাপড় ভর্তি বোঁচকা। হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মনের আনন্দে কাপড় ফেরী করেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ পরিমল পাল। পটিয়া থেকে সকালের ট্রেনে তিনি বেরিয়ে পড়েন আর সন্ধ্যায় ট্রেনেই বাড়ি ফেরেন পরিমল।

ঈদ প্রায় সমাগত তাই তাঁর ব্যস্ততাও বেশি। লাঠিতে ভর দিয়ে হেঁটে হেঁটে কাপড়ের বোঁচকা কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেছেন। কিসের তাড়া যেন তাঁড়িয়ে বেড়াছে এ বৃদ্ধকে। দাঁড়িয়ে একদ- কথা বলারও সময় নেই তাঁর।

হাঁটতে হাঁটতেই কথা হয় তাঁর সাথে, বসে খেতে ভালো লাগে না বলেই এখনো লাঠি হাতে নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে জানান তিনি। ছেলেরা বারণ করলেও তিনি তা শুনেননি।

মনের আনন্দে জীবনের ৬৩ বছর ধরে এ ব্যবসা করে যাচেছন জানিয়ে বৃদ্ধ পরিমল বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে অনেকের কাছ পাওনা রয়েছে। কেউ যেচে দিয়ে দেয়, কেউ দেয় না। এতে আপসোস নেই। তবে মায়া পড়ে গেছে মানুষগুলো প্রতি। তাই এ ব্যবসা আজো ছাড়তে পারিনি।’

স্থানীয়রা জানান, সেই অনেক বছর আগে থেকে এ ব্যবসায় করে আসায় প্রায় পরিবারের সাথে সখ্যতাও রয়েছে বেশ। আগে সপ্তাহের প্রতিরবিবারে তিনি বোয়ালখালীতে কাপড় নিয়ে আসতেন বলে রবিবারের বেপারী হিসেবে পরিচিত।

এখন ১৫দিন পরপর বোয়ালখালীতে আসেন বলে জানান এ বৃদ্ধ ব্যবসায়ী। পটিয়া উপজেলার ভাঁটিখাইন গ্রামের পালপাড়ার বাসিন্দা তিনি। সংসারে তিন ছেলে রয়েছে। ছেলেরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

বৃদ্ধ কাপড় ব্যবসায়ী পরিমল জানান, জীবন জীবিকার তাগিদে ২০ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবনের শুরু হয়। সাতবছর একনাগাড়ে চলে চাকুরি জীবন। ১৯৫৪ সালে নগরী থেকে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাইকারী দামে লুঙ্গি, গামছা, শাড়ি, থ্রিপিস, জামাসহ যাবতীয় কাপড়চোপড় কিনে কাঁদে তুলে নেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তিনি ব্যবসা করেছেন। এ ব্যবসার সুবাধে প্লেনে চড়ে বার্মার রেঙ্গুন শহরেও গিয়েছেন তিনি।

উপজেলার কধুরখীল গ্রামের ৪২ বছর বয়সী রাজু দে বলেন, ছোট বেলা থেকে এ ব্যবসায়ীকে রবিবারের বেপারী হিসেবেই চিনতাম। ছোটবেলায় বাবা তাঁর থেকে কাপড় কিনে দিতো। কাপড় কিনতে সেই রবিবারের অপেক্ষায় থাকতাম। বাকিতেও কাপড় দিতেন তিনি। পরে অল্প অল্প করে টাকা শোধ করা হত। তিনি এখনো গ্রামে আসলে সেই সব দিনের কথা মনে পড়ে যায়। সাদাসিধা শান্ত লোকটি কখনোই উচ্চ স্বরে কথা বলতে দেখেনি। সদা হাসিমুখে কথা বলতেন তিনি।

যতদূর মনে পড়ে, রবিবার সকালে লোকটি কাপড়ের বোঁচকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি করতেন। দুপুর বেলা সাথে নিয়ে আসা চিড়া পানিতে ভিজিয়ে গুড় দিয়ে খেতে দেখেছি। সন্ধ্যার আগে আগে ফিরে যেতেন তিনি।


আরোও সংবাদ